ভিসা নেটওয়ার্কে ‘ফার্মার্স কার্ড’ উদ্বোধন, ডিজিটাল ভর্তুকি মিলবে সরাসরি

ভিসা নেটওয়ার্কে ‘ফার্মার্স কার্ড’ উদ্বোধন, ডিজিটাল ভর্তুকি মিলবে সরাসরি
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:০৪  

ভিসা নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করেছে সরকার, যার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ভর্তুকি ও প্রণোদনা পৌঁছাবে সরাসরি ও ডিজিটালভাবে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন; ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার থেকে উন্মুক্ত হওয়া এ সেবায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত রয়েছে ভিসা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি–এর সহযোগিতায় কার্ডটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কার্ডটি একদিকে কৃষকের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে ভিসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করবে। ফলে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কৃষকের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র ব্যবহার, ভর্তুকি, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, প্রশিক্ষণ, রোগ-পোকামাকড় দমন পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগসহ মোট ১০ ধরনের সেবা পাবেন।

ভিসা’র বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, “এটি আধুনিক বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। ফার্মার্স কার্ড উদ্যোগটি কৃষকের পরিচিতি, সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনকে একত্রিত করেছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও উন্নত করবে। এটি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও সহজ করবে। এমন একটি জাতীয় উদ্যোগে সরকার ও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শওকত আলী খান বলেন, “ফার্মার্স কার্ড উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছি। সরকারি উদ্যোগেরর সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা সরাসরি যুক্ত হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক সেবার বিস্তারে আমাদের এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাত আধুনিকায়নের পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ২২ হাজারের বেশি কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। একই দিনে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২০ হাজারের বেশি কৃষক, মৎস্যচাষি, খামারি ও লবণচাষীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রত্যেকে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পেয়েছেন, যা কৃষি উপকরণ কেনায় ব্যবহার করা যাবে।

প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেসারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডিবিটেক/আরআই/ইকে