ই-সিম ব্যবসায় নামল ট্রুকলার

ই-সিম ব্যবসায় নামল ট্রুকলার
২৫ মে, ২০২৬ ১৯:৫৭  

অজানা নম্বর থেকে আসা ফোন কলের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং স্প্যাম কল ব্লকিং অ্যাপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ‘ট্রুকলার’। ২০০৯ সালে স্টকহোমে যাত্রা শুরু করা এই জনপ্রিয় সুইডিশ প্রতিষ্ঠানটি এবার সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যবসায় হাত বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য তারা চালু করেছে ‘ট্রাভেল ই-সিম’ সেবা। এর মাধ্যমে ট্রুকলার ব্যবহারকারীরা বিদেশ ভ্রমণের সময় অ্যাপের ভেতর থেকেই আন্তর্জাতিক মোবাইল ডাটা বা ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে পারবেন।

তবে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশনের বাইরে গিয়ে ট্রুকলারের এই মোবাইল ডাটা ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বের রেকর্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

২৯টি দেশে মিলবে হাই-স্পিড ডাটা সেবা
ট্রুকলারের এই ট্রাভেল ই-সিম মূলত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল মোবাইল ডাটা সার্ভিস। প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের বাজারে এটি চালু করা হয়েছে। তবে ট্রুকলার জানিয়েছে, এই ই-সিমটি দিয়ে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট কাভারেজ পাওয়া যাবে।

টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘টেলনেস টেক’-এর ‘সিমলেস ওএস’ প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় ট্রুকলার এই নেটওয়ার্ক সেবাটি পরিচালনা করছে। বর্তমানে আইফোন ব্যবহারকারীরা সরাসরি ট্রুকলার অ্যাপ থেকে এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ট্রুকলারের ওয়েবসাইট বা ওয়েব চ্যানেলের মাধ্যমে এই ই-সিম কিনতে ও সক্রিয় করতে পারবেন। প্যাকেজগুলোর মেয়াদ ১ জিবি (৭ দিন) থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ জিবি (৩০ দিন) পর্যন্ত রাখা হয়েছে। যেহেতু এটি কেবল ডাটা-নির্ভর সেবা, তাই এই ই-সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল বা ফেসটাইমের মতো অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস কল ও মেসেজিংয়ের কাজ সারতে হবে।

কেন হঠাৎ ই-সিম ব্যবসায় নামল ট্রুকলার?
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রুকলারের নিট বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ৩৬১.৬ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনারে নেমে এসেছে। একই সাথে তাদের মূল আয়ের উৎস ‘বিজ্ঞাপন রাজস্ব’ কমে গেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

মূল ব্যবসায় এই মন্দাভাব এবং তীব্র চাপের কারণেই মূলত আয়ের নতুন উৎস খুঁজতে ই-সিম ব্যবসায় নামল ট্রুকলার। তবে এই বাজারে ইতিমধ্যেই ‘এয়ারালো’, ‘হলোফ্লাই’ বা ‘নম্যাড’-এর মতো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো রাজত্ব করছে। ট্রুকলারের একমাত্র বড় সুবিধা হলো তাদের বিশাল ফ্যানবেস; বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষের ফোনে ট্রুকলার অ্যাপটি ইনস্টল করা রয়েছে।

বাদ পড়েছে শীর্ষ বাজার ভারত, কাটেনি নিরাপত্তা বিতর্কও
চমকপ্রদ বিষয় হলো—ট্রুকলারের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত হওয়া সত্ত্বেও, প্রথম দফার এই ই-সিম সেবা চালুর তালিকা থেকে দেশটিকে বাদ রাখা হয়েছে। ট্রুকলার এর কোনো স্পষ্ট কারণ না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে ট্রাভেল ই-সিম বিক্রির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর সরকারি আইনি নিয়মকানুন ও লাইসেন্সিং জটিলতার কারণেই তারা উপমহাদেশে এখনই এই সেবা আনতে পারেনি।

পাশাপাশি ট্রুকলারের তথ্য সুরক্ষা বা প্রাইভেসি বিতর্ক গ্রাহকদের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে। ২০১৯ সালে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ট্রুকলারের প্রায় ৩ কোটি ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, নাম, ইমেইল, শহর এবং ফেসবুক আইডিসহ সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য আপলোড করা হয়েছিল। ট্রুকলার তখন তাদের ডেটাবেস হ্যাক হওয়ার খবর অস্বীকার করলেও, এই ধরনের রেকর্ড থাকার কারণে ব্যবহারকারীরা তাদের থেকে ইন্টারনেট বা ই-সিম সেবা কেনার আগে দুবার ভাববেন বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: ডিজিটাল ট্রেন্ডস