মার্কিন স্পেস ফোর্সের জন্য ‘হুমকি শনাক্তকারী’ স্যাটেলাইট বানাচ্ছে স্পেসএক্স
মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবার পেন্টাগনের কাছ থেকে এক বিশাল সামরিক চুক্তি বাগিয়ে নিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর মহাকাশ শাখা ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ জানিয়েছে, আকাশপথের যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক হুমকি বা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নজরদারি এবং তা নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করার জন্য একটি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম বা কৃত্রিম উপগ্রহ নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে তারা ইলন মাস্কের এই সংস্থাকে ৪১৬ কোটি (৪.১৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি প্রদান করেছে।
আইপিও বা শেয়ার বাজারে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্পেসএক্স-এর জন্য এটি চলতি বছরের অন্যতম বৃহত্তম এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি।
দূর করবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘ব্লাইন্ড স্পট’
এই প্রকল্পের অফিশিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পেস-বেসড অ্যাডভান্সড মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেটর’ বা এসবি-এএমটিআই। এটি মূলত একটি আন্তঃসংযুক্ত ‘সিস্টেম-অব-সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করবে। এর আওতায় মহাকাশে থাকা অত্যাধুনিক সেন্সর, সুরক্ষিত সামরিক যোগাযোগ লিংক এবং ভূপৃষ্ঠে থাকা গ্রাউন্ড প্রসেসিং ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হবে।
স্পেস ফোর্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রাথমিক চুক্তির লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে মহাকাশে একটি শক্তিশালী স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন বা উপগ্রহের ঝাঁক মোতায়েন করা। এর ফলে মার্কিন যৌথ সামরিক বাহিনী যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সাময়িক ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা নজরদারির সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পূর্ণ দূর করতে পারবে এবং যেকোনো আকাশপথের হুমকি দ্রুত রুখে দিতে সক্ষম হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পের অংশ
এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ফ্ল্যাগশিপ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘গোল্ডেন ডোম’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল ও ট্র্যাকিং স্তর হিসেবে কাজ করবে। ১৮ হাজার ৫০০ কোটি (১৮৫ বিলিয়ন) ডলার বাজেটের এই বিশাল গোল্ডেন ডোম উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—ভূপৃষ্ঠের ইন্টারসেপ্টর, সেন্সর ও কমান্ড সিস্টেমের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি মহাকাশ-ভিত্তিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশীয় কক্ষপথে থাকা বিতর্কিত বা যেকোনো মারাত্মক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি ট্র্যাক ও প্রতিহত করা।
স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, এই এসবি-এএমটিআই প্রকল্পে স্পেসএক্স ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি কাজ করছে এবং আগামী বছরগুলোতে এই খাতের অন্যান্য সংস্থাকেও একাধিক চুক্তি দেওয়া হতে পারে।
১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আইপিও ও স্পেসএক্স-এর জয়জয়কার
শেয়ার বাজারে প্রথমবার নিজেদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ১.৭৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল বাজারমূল্য বা ভ্যালুয়েশন ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে স্পেসএক্স। এমন সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের একের পর এক বড় চুক্তি তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই মার্কিন স্পেস ফোর্স বিশ্বজুড়ে সামরিক সেন্সর ও অস্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্ত করতে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও উচ্চগতির স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য স্পেসএক্স-কে আরও একটি ২২৯ কোটি (২.২৯ বিলিয়ন) ডলারের চুক্তি প্রদান করেছিল। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ৪১৬ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি এলন মাস্কের মহাকাশ সাম্রাজ্যকে প্রতিরক্ষাবাজারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স



