অভিগম্য প্রযুক্তির পসরা বসেছে বিডায়
যে কোনো ডক্যুমেন্টই শ্রুতিপ্রতিবন্ধী পাঠ উপযোগী হয়ে যাবে মুঠোফোনে। ডক্যুমেন্টকে ইশরাভাষাতেও রূপন্তর করবে এ্যডু অ্যাসিস্ট। ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টইয়ার, বাংলাদেশের উদ্ভাবকদের তৈরি এই উদ্ভাবনে যুক্ত রয়েছে এআই সুবিধাও। উদ্ভাবক মুরাদ হোসেন জানালেন, তাদের এই উদ্ভাবন প্রতিবন্ধীদের বাধা দূর করবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো পাঠ তারা ডক্যুমেন্ট আকারে আপলোড করলেই তা ইশারা ভাষায় রূপান্তর করে দিতে পারবে।
এমনই আরেকটি উদ্ভাবন ডিজিটাল ছাদা ছড়ি- 'আভাস স্মার্ট কেইন' সচেতন করবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পথের বাধাকে। বুঝিয়ে দেবে সড়ক বাতির বার্তা।
বোতাম টিপে ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ার 'কাস্টমাইজড মোটোরাইজড ট্রাইসাইকেল' সব জায়গায়ে যেতে পারবেন শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিটি। কেবল বসে থেকেই নয় তাকে দাঁড়াতেও সাহায্য করবে 'অটোমেটিক স্ট্যান্ডিং চেয়ার'।শ্রুতিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল ইশারা ভাষা তৈরির সফটওয়্যার। ছাপা যেকোনো কাগজের লেখাকে অ্যাক্সেসেবল ইউনিকোডে লিখে তা আবার পড়ে শোনাবে ওমনিসেন্ট ওসিআর। সফটওয়্যারের করা যাবে নীরিক্ষার কাজও করে দেবে চাহিদা মতো।
২১ মে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগঁওয়ের বিডা মিলনায়তনে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধী বান্ধব প্রযুক্তির পসরা সাজিয়ে বসেছেন তরুণ উদ্ভাবকেরা। সকালে তরুণ এই উদ্ভাকদের উদ্ভাবন সময় নিয়ে পরিদর্শন করলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম পরিদর্শন শেষে উদ্ভাবনগুলোতে মুগ্ধতা প্রকাশ করে সবার জন্য বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন তিনি। এসময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল এবং এটুআই প্রকল্প পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ আব্দুর রফিক উপস্থিত ছিলেন।
এটুআই এর সহায়তায় এভাবে সবার মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সমান সুবিধা পাওয়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। দিবসের জাতীয় উদযাপন অনুষ্ঠানে পুরস্কার পেতে যাচ্ছে প্রযুক্তি বান্ধাব এমন আরও ৫টি প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, ডিজিব্যালিটি ইনফরমেশন সিস্টেম, গ্রাম আদালত মোবাইল অ্যাপলিকেশন এবং ইবিএল স্কাই ব্যাংকিং।
দিবসটি পালনে আয়োজিত উপস্থিত প্রতিবন্ধীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগদ-বিকাশ এর মতো এমএফএস-কে অবিলম্বে আইনি নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অ্যাকসেসিবিলিটি বিশেষজ্ঞ ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ; যদি সবাই পায় ডিজিটাল অ্যাকসেস। এটা দয়া নয়, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআউএম//



