বেসিস নির্বাচনে ‘টোকাই’ পোস্ট ঘিরে উত্তপ্ত বেসিস কার্যালয়
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন Bangladesh Association of Software and Information Services (বেসিস)-এর নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভোটার তালিকা কারচুপি, রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ২১ মে বৃহস্পতিবার বেসিস কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
“বেসিস দখল করার টোকাইরা কৈ!”- এমন একটি গ্রুপ মেসেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল এবং বিলুপ্ত সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যের নেতৃত্বে সংস্কারপন্থীরা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
তাদের অভিযোগ, কৌশলে “ফ্যাসিস্ট দোসরদের” ভোটার করে নির্বাচনে ওয়াকওভার দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা বেসিস সচিবালয়ের সদস্যদের সামনে প্রশ্ন তোলেন—এক রাতে কীভাবে বিপুলসংখ্যক ভোটার যুক্ত হলো, কেন সংস্কারপন্থীদের ‘টোকাই’ বলে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, আবেদন গ্রহণে এত নাটকীয়তা কেন এবং সেখানে নির্বাচন কমিশনের কোনো সদস্য কেন উপস্থিত ছিলেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উস্কানিমূলক পোস্টদাতা ব্যক্তি বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিকেল ৪টার পর প্রার্থিতা ফরম জমা দিতে এলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই কাওরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি-এর ইনচার্জ হিরন মোল্যা-এর নেতৃত্বে আট সদস্যের পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়। পরে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থীদের আবেদনপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ সময়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আবেদন বিক্রি ও গ্রহণের পুরো সময়জুড়ে বেসিস সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
কমিশনের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম-কে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী ফরম কিনেছেন এবং জমা দিয়েছেন, সে তথ্য পরে ডিটিও জানাবে।
এর আগে বেসিসের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হঠাৎ ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্য ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৭২৫ জন আবেদন করলেও চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩৫ জনে।
বিক্ষুব্ধ উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত ভোটার কারা, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন—তা এখনো স্পষ্ট করেনি নির্বাচন বোর্ড। তাদের দাবি, এটি শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা ভোট নিশ্চিত করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এতে সংগঠনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিট, মেম্বারশিপ যাচাই এবং ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সেই দাবিগুলো উপেক্ষা করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।
বিক্ষুব্ধ সদস্যরা বিতর্কিত ভোটার তালিকা পুনঃযাচাই, পূর্ণাঙ্গ মেম্বারশিপ ও আর্থিক অডিট এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
ডিবিটেক//এসএইচ/এমইউএম/



