গবেষণায় নতুন মাইলফলক

ন্যাচার ইনডেক্সে দেশের ১৫তম স্থানে রুয়েট

ন্যাচার ইনডেক্সে দেশের ১৫তম স্থানে রুয়েট
২৮ মে, ২০২৬ ০০:০১  

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার মর্যাদাপূর্ণ সূচক ‘ন্যাচার ইনডেক্স’-এ দেশব্যাপী ১৫তম অবস্থান অর্জন করেছে। ০.২০ শেয়ার স্কোর নিয়ে এ অবস্থানে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, যা দেশের প্রকৌশলভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা ন্যাচার পোর্টফোলিও ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য সংরক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুটি মেডিকেল কলেজসহ মোট ৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে।

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৫টি উচ্চমানের পিওর সায়েন্স ও মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং গবেষকদের অবদানের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। ন্যাচার ইনডেক্সের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কোনো গবেষণায় একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা গবেষক যুক্ত থাকলে গবেষণার মোট অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়, যাকে ‘শেয়ার স্কোর’ বলা হয়। এই স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

রুয়েট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তর্ভুক্তি গবেষণায় ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সক্ষমতারই প্রতিফলন। আধুনিক গবেষণাগার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে ন্যাচার ইনডেক্সসহ অন্যান্য বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়েও রুয়েট আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ন্যাচার ইনডেক্সে রুয়েটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। এটি শুধু গবেষণায় অগ্রগতির স্বীকৃতি নয়, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং একাডেমিক নিষ্ঠার প্রতিফলন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও রুয়েট ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অর্জন সেই অগ্রযাত্রাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণামুখী কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এই স্বীকৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় নতুন করে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ন্যাচার ইনডেক্সের তালিকায় একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বুয়েট, কুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

/ডিবিটেক/এসআই/ইকে/