সতর্ক করলো ডিএমপি
এআই ট্রাফিক মামলার নামে প্রতারণা, ভুয়া এসএমএসে ব্যাংক তথ্য চুরি
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ যানবাহন মালিকদের ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপ ও ব্যক্তিগত টাইমলাইনে ২৪ মে, রবিবার অনেক ভুক্তভোগী এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পাওয়ার কথা জানান। নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সরকারি প্রচারণা না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, প্রতারকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) লোগো ব্যবহার করে ভুয়া মেসেজ পাঠাচ্ছে। সেখানে একটি ভুয়া মামলা নম্বর দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ক্যামেরায় গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘনের তথ্য ধরা পড়েছে।
মেসেজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা না দিলে শাস্তির হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তথ্য জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত করার কথাও বলা হচ্ছে। জরিমানা পরিশোধের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া লিংক যুক্ত করা হচ্ছে, যেখানে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর ব্যাংক তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর বা ওটিপি চুরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ নিয়ে প্রযুক্তিবিদ আব্দুর রহমান জানান, বাইক না চালিয়েও তিনি এআই মামলা পেয়েছেন। এমনকি মামলার টাক পরিশোধে ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে এসএমএসও পাঠানো হয় তাকে। পরে অনুসন্ধান করে এই প্রতারণা বিষয়ে নিশ্টিত হন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, ভুয়া মেসেজগুলো সাধারণত বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের কোড (+৬৩) ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইট সাধারণত ‘.gov.bd’ ডোমেইনে পরিচালিত হয়। ডোমেইনের মধ্যে govbd লেখা থাকলেও শেষে .online, .icu বা অন্য কোনো এক্সটেনশন থাকলে সেটি সরকারি সাইট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টাকা আদায়ের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সাইবার প্রতারণার পরিচিত কৌশল।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিএ জানিয়েছে, বিআরটিএ থেকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো মামলা দেওয়া হয় না এবং এ ধরনের জরিমানাও সংস্থাটি গ্রহণ করে না। বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করা সম্পূর্ণ প্রতারণা।
ঢাকা মহানগর পুলিশও জানিয়েছে, এআই ট্রাফিক মামলার বিষয়ে এখনো কোনো নাগরিকের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়নি। বর্তমানে ডিজিটাল মামলার নথি ডাকযোগে সরাসরি গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। জরিমানা পরিশোধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।
পুলিশ নাগরিকদের কোনো লিংকে প্রবেশ করে কার্ড বা ব্যাংক তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
/ডিবিটেক/এসআই/ইকে/



