ব্রডব্যান্ড এক্সপো
দ্বিতীয় দিনে ভীড় এক্সপেরিয়েন্স জোন; পর্দা নামছে বুধবার
দিনটা ছিল পয়লা বৈশাখ। ছুটিরও দিন। সেজে-গুজে কেউবা দলবেঁধে; কেউ আবার পরিবার নিয়ে বেরিয়েছিলেন বৈশাখের প্রাণের উৎসবে মিলিত হতে। অনেকেই তাই রমনা থেকে ফেরার পথে ঢুঁ দিয়েছেন আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান ব্রডব্যান্ড এক্সপোতে। ফলে ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার দুপুরের পর দর্শনার্থী মুখর হয় মেলা প্রাঙ্গন। বিকালে চাপ বাড়ে। সন্ধ্যায় ব্যান্ড দল শিরোনামহীন ও অন্যান্য ব্যান্ড দল সংগীত পরিবেশন করে।
১৫ এপ্রিল; বুধবার বিকেলে শেষ হবে এই প্রদর্শনী।
এদিকে প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে আইএসপিএবির ২৮ জন আজীবন সদস্যকে সম্মাননা জানানো হয়। এছাডা আইএসপিএবির বিগত নির্বাহী কমিটিকে (২০২৪-২০২৫) সম্মাননা জানিয়েছে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি। এ অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব) ইকবাল আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম, মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঞাঁ সহ ইসি কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি)’র আয়োজনে ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’ প্রতিপাদ্যে ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া ব্রডব্যান্ড এক্সপো-তে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টলে ইন্টারনেট সেবা সম্পর্কিত সেবা, সলিউশন্স প্রদর্শীত হচ্ছে। তবেে এই সেবাগুলোর চেয়ে তরুণদের আগ্রহ ছিলো এক্সপেরিয়েন্স জোনে।
উদ্ভাবনগুলো মধ্যে ইউআইটিএস এর অ্যারোপনিক্স ভার্টিক্যাল ফার্মিং ছিল একটু ভিন্ন। এটি মাটিবিহীন এক অত্যাধুনিক চাষ পদ্ধতি, যেখানে শিকড় বাতাসে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ কুয়াশা (mist) স্প্রে করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি নির্ভর এই চাষাবাদ মডেলটি ছিলো সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে। এই প্রজেক্টের প্রধান রাজিবুল হাসান বাধঁন বলেন, এটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে উপযোগী করে তৈরি করা। এই প্রযুক্তিতে সাধারণভাবে চাষ করতে যে সময় লাগবে তার অর্ধেক সময়ে সম্পূর্ণ ফল উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া ভার্টিক্যাল অ্যালাইন সুবিধা থাকার কারণে পাঁচগুন কম জায়গার প্রয়োজন হয় এতে। এর একটি বড় সুবিধা হলো মাত্র চার বর্গফুট জায়গার ভেতরে প্রায় ৫০টা শাকশব্জির চাষ করা যাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে।
একইভাবে বিভিন্ন প্লেনের মডেলের রেপ্লিকা নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে তরুণ উদ্ভাবক মো. খালিদ হোসেন। তিনি তার অ্যারোলাইট নামের প্রজেক্ট নিয়ে বললেন, প্লেনের বিভিন্ন এই রেপ্লিকা মডেল দিয়ে নান্দনিক উপস্থাপনার পাশাপাশি এফপিবি মনিটরিং ক্যামেরা অর্থাৎ রিমোট কানেক্ট করে ভিআর গ্লাসের মাধ্যমে দেখা, জিপিআরএস এরিয়া ম্যাপিং এবং কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
মেলায় যথারীতি নিজেদের তৈরি মার্স রোভার বা মঙ্গল তরী নিয়ে হাজির হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক ক্লাব। তাদের তৈরি বিশেষ এই যান পাথুরে অসমতল রাস্তায় চলাচল করতে পারে। এছাড়া মাটির স্যাম্পল কালেকশনসহ আরও বিভিন্ন ফিচার আছে মঙ্গল তরীতে। বিশ্বিদ্যালয়ের রোবটিক ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তাসিন আহসান হৃদি বলেন, দেশে আমরাই প্রথম রোবোটিক ইকোসিস্টেম চালু করেছি। মঙ্গল তরীর পাশাপাশি আরও যেসব ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট রয়েছে সেগুলো হলো, ডুবুরী, অন্বেষা, নাবিক, অগ্নিবীর ইত্যাদি।
ডিবিটেক/এইচএইচবিজে/এমইউআইএম



