ঢাকায় ৩০ পয়েন্টে এআই ক্যামেরায় ১৩ দিনে ৫৪৮ মামলা

ঢাকায় ৩০ পয়েন্টে এআই ক্যামেরায়  ১৩ দিনে ৫৪৮ মামলা
২৩ মে, ২০২৬ ১০:১৩  

রাজধানীর সড়কগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আধুনিক ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মাত্র ১৩ দিনে ৫৪৮ জনের নামে ডিজিটাল মামলা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রাথমিক পদক্ষেপে ঢাকার ৩০টি পয়েন্টে এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি সচল করা হয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় নতুন ডিভাইস বসানোর কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব সিগন্যাল বাতির খুঁটিতে মোট ৫০০টি এআই ক্যামেরা যুক্ত করে পুরো ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।

সূত্রমতে, চলন্ত গাড়ি ও নম্বর প্লেট নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পুলিশ মূলত এআইভিত্তিক ‘পিটিজেড’ (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা ব্যবহার করছে, যা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে উচ্চ রেজুলেশনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে। দূর থেকে স্পষ্ট ছবি তোলার ক্ষমতাসম্পন্ন একেকটি ক্যামেরার বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকারও বেশি। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, মহাখালী বাস টার্মিনালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নতুন ক্যামেরা বসানোর কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও এসব ডিজিটাল মামলার জরিমানার তথ্য চালক বা গাড়ির মালিকদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি এখনও রয়ে গেছে অ্যানালগ। বর্তমানে মামলার বিবরণী ডাকযোগে পাঠানো হলেও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, শিগগিরই সরাসরি মুঠোফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠানোর কাজ চলছে। তবে প্রযুক্তির এই কড়াকড়ির মধ্যেও উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা এবং জেব্রাক্রসিং বা স্টপ লাইন না মানার দায়ে সার্ভারে জমা পড়েছে প্রায় ১২ হাজার ভিডিও ফুটেজ। 

ডিজিটাল নজরদারির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন রাজধানীর চালকেরা। তাদের অভিযোগ, কিছু কিছু মোড় এখনও ট্রাফিক পুলিশের ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং রাস্তার মাঝখানে হুটহাট প্লাস্টিকের অস্থায়ী বেড়া বা ব্যারিকেড ব্যবহার করায় সিগন্যালে গাড়ি চালানো নিয়ে তারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে মূল সড়কগুলোতে দ্রুতগতির গাড়ির সমান্তরালে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচলের কারণে লেনের নিয়ম বজায় রাখতে গিয়ে সাধারণ চালকদের গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। আধুনিক ক্যামেরার পাশাপাশি সড়কের এই বিশৃঙ্খল অবকাঠামো দূর না করলে ডিজিটাল ট্রাফিকিং পুরোপুরি সফল হবে না বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

//ডিবিটেক/আরআই/এমইউএম//