হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ইউনাইটেড মেডিকেলে বিশেষায়িত ইউনিট চালু

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ইউনাইটেড মেডিকেলে বিশেষায়িত ইউনিট চালু
২৮ মে, ২০২৬ ১৭:৩৭  

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭৭টি শিশু। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৭৭টি শিশুর। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৮৮ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ের সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংক্রমণ বিস্তার রোধ এবং অন্যান্য রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে।

অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি হাম রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ইউনিট, জরুরি ট্রায়াজ ব্যবস্থা, পৃথক এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ জোন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালু করেছে। একই সঙ্গে রোগীদের চলাচলের জন্য পৃথক ব্যবস্থা, পিপিই ব্যবহার এবং নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অনেক রোগীকেই ওয়ার্ড খরচে কেবিন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা, ভেন্টিলেশন সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে ওয়ান-টু-ওয়ান নার্সিং সাপোর্ট ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।

এ পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থাপনার আওতায় ১৬ জন হাম রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের মেডিকেল সার্ভিসেস ডিরেক্টর ডা. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। কার্যকর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, সাশ্রয়ী চিকিৎসা, দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকট আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিশুর সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এমন জাতীয় সংকটের সময়ে স্বাস্থ্যসেবা হয়ে ওঠে সবার যৌথ দায়িত্ব।

সংকটকালীন এই পরিস্থিতির মধ্যেও ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল তাদের জরুরি ও ক্রিটিক্যাল চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রেখেছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং সমন্বিত সেবার মাধ্যমে হাসপাতালটি নিরাপদ ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

/ডিবিটেক/এসআই/ইকে/