স্পর্শহীন কিউআর কোড সুবিধার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু
সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিবাসীর হাতে স্পর্শবিহীন চিপ ও কিউআর কোড সম্বলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী সহধর্মীনী জুবাইদা রহমান।
১০ মার্চ, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) ল্যাপটপের ‘এন্টার’ বাটন চেপে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। এর আগে তার হাত থেকে প্রথমে ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণ করেন বেগম রিনা আক্তার। একে একে মোসাম্মাৎ সুমী খাতুন, আকলিমা বেগম এবং মিনারা বেগম। কার্ড প্রদানের পর ল্যাপটপের এন্টার বাটন চেপে কার্ড গ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি নগদ অর্থ সহায়তা ছাড় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে সংগীতের সঙ্গে তাল মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ।
প্রসঙ্গত, ৯ মার্চ, সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড বরাদ্দ থাকলেও বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলট পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতি ঠেকাতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা পাওয়া পরিবারগুলো বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই সহায়তার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম







