জাতীয়তাবাদি আইসিটি ফোরাম সভাপতি রাফেল কবির
নতুন সরকারের সামনে ডিজিটাল খাতের পাঁচ বড় চ্যালেঞ্জ
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস বিজয় অর্জনের পর আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আগের সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প ঘিরে নানা বিতর্ক, বাস্তবায়ন ঘাটতি ও ব্যয়–দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে নতুন সরকারের সামনে বেশ কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জ ও করণীয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন ঘাটতি, ডিজিটাল অবকাঠামোর মান ও ব্যয় এবং বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন পরিবেশ—এসব বিষয়কে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সভাপতি রাফেল কবির।
তার ভাষায়, বাংলাদেশে অনেক ভালো নীতি গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়ন দুর্বল থাকে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পরিবেশে নীতির স্থিতিশীলতা ও সময়োপযোগী হালনাগাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
নতুন সরকার শপথ গ্রহণের আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ডিজিবাংলাটেক-এর এক প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তা রাফেল কবির।
ডিজিটাল অবকাঠামোর মান উন্নয়ন ও ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী ব্রডব্যান্ডের মান, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং ডেটা ব্যয়ের যৌক্তিকতা এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ৫জি প্রস্তুতি, ফাইবার নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।
একই সঙ্গে স্টার্টআপ ও ডিপ-টেক খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, গবেষণা তহবিল এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম এখনও সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবসা খাতের প্রতিষ্ঠান DNS Group-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী রাফেল কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষাক্রম আধুনিকীকরণ এবং শিল্প–সমন্বিত (ইন্ডাস্ট্রি-অ্যালাইনড) প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। শক্তিশালী ডেটা প্রোটেকশন কাঠামো ও কার্যকর সাইবার রেসপন্স সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
নীতিগত সমন্বয় ও রেগুলেটরি সংস্কারের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সহায়ক কমিটির চেয়ারম্যান রাফেল কবির বলেন, আইসিটি ও টেলিকম খাতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একক ও সমন্বিত রেগুলেটরি ভিশন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
নতনু সভাপতির সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্ট হলো- নতুন সরকারের জন্য এখন মূল প্রশ্ন—নীতির ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের গতি ও জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা যায়। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে হলে অবকাঠামো, মানবসম্পদ, বিনিয়োগ ও সাইবার নিরাপত্তায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণই হবে সময়ের দাবি।
ডিবিটেক/এমএসএইচ/এমইউএম







