চুরি করা ভিডিও দিয়ে ‘ভিউ বাণিজ্য’ বন্ধে কঠোর এক্স

চুরি করা ভিডিও দিয়ে ‘ভিউ বাণিজ্য’ বন্ধে কঠোর এক্স
২৫ মে, ২০২৬ ১৬:৫১  

অন্যের কষ্ট করে বানানো ভাইরাল ভিডিও বা কনটেন্ট মুহূর্তের মধ্যে চুরি করে নিজের অ্যাকাউন্টে আপলোড করা, ওপরে একটা ‘ব্রেকিং’ ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া এবং আসল ক্রিয়েটর কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাখ লাখ ভিউ (ইমপ্রেশন) কামিয়ে পকেট ভারী করা—জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এটি ছিল এক অতি পরিচিত ও বিরক্তিকর ব্যবসার মডেল। তবে অন্যের কনটেন্ট চুরি করে সহজে টাকা আয়ের এই ‘ভিউ বাণিজ্যের’ দিন এবার শেষ হতে চলেছে। এই অনৈতিক ইকোসিস্টেম বা চক্রটি ধ্বংস করতে এবার এক বড় ধরনের ক্র্যাকডাউন বা দমন অভিযানে নেমেছে এক্স কর্তৃপক্ষ।

প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, যারা অন্যের কনটেন্ট চুরি করে বা রিস্টোরি করে রিভিনিউ শেয়ারিং (বিজ্ঞাপন থেকে আয়) হাতিয়ে নিচ্ছিল, তাদের পেমেন্ট বা লভ্যাংশ ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চোরদের আয় কমবে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত
এক্স-এর প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার জানিয়েছেন, মেটার মতো এক্স-ও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশেষ অ্যালগরিদমের সাহায্যে এমন কিছু বড় বড় অ্যাকাউন্টকে চিহ্নিত করছে, যারা পদ্ধতিগতভাবে ছোট ছোট সাধারণ ক্রিয়েটরদের কনটেন্ট রি-আপলোড করে এক্স-এর ‘ক্রিয়েটর রেভিনিউ-শেয়ারিং’ সিস্টেমের অপব্যবহার করছিল।

এক্স-এর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ভিডিও বা কনটেন্ট ভাইরাল হলে তার ভিউ এবং আর্থিক লভ্যাংশ চোর বা এগ্রিগেটর অ্যাকাউন্টের বদলে সরাসরি মূল বা আসল ক্রিয়েটরের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নিকিতা বিয়ার আরও জানান, ইতিমধ্যেই এই নীতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী বেশ কিছু বড় অ্যাকাউন্টের মাসিক আয় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কেটে নেওয়া বা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্লিকবেইট ও রেজ-বেইটের ওপরও খাঁড়া
এক্স-এর এই অভিযান কেবল ভিডিও চোরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং যারা প্রতিনিয়ত টাইমলাইনে ভুয়া বা চটকদার ক্লিকবেইট হেডলাইন, পুরনো ও রিসাইকেল করা ভিডিও, কৃত্রিমভাবে মানুষের ক্ষোভ উসকে দেওয়া ‘রেজ-বেইট’ পোস্ট এবং ক্রিপ্টো স্প্যাম ছড়িয়ে কেবল এনগেজমেন্ট বাড়ানোর ধান্দা করছিল, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একই সাথে এক্স জানিয়েছে, কোনো ভিডিওতে যদি কেউ নিজের মন্তব্য বা মতামত যুক্ত করতে চান, তবে সরাসরি ভিডিওটি ডাউনলোড করে আপলোড না করে তাদের উচিত এক্স-এর অফিশিয়াল ‘কোট’ বা ‘শেয়ার ভিডিও’ ফিচারটি ব্যবহার করা। এর ফলে যিনি ভিডিওটি প্রথম আপলোড করেছেন, তার ক্রেডিট ও ভিউ অক্ষুণ্ন থাকবে।

নিজেদের তৈরি ফাঁদেই পড়েছিল এক্স
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এক্স আসলে নিজেদের তৈরি করা ফাঁদেই এতদিন আটকে ছিল। ইলন মাস্ক এক্স-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন থেকে ক্রিয়েটরদের মূলত ইমপ্রেশন বা ভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে টাকা দেওয়া শুরু হয়, তখন থেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে কনটেন্ট চুরির এই জোয়ার শুরু হয়। কারণ নিজের মেধা খাটিয়ে মৌলিক কোনো কনটেন্ট তৈরি করার চেয়ে অন্যের ভাইরাল জিনিস চুরি করে দ্রুত পোস্ট করা অনেক বেশি সহজ ও লাভজনক ছিল।

তবে দেরিতে হলেও এক্স-এর এই বোধোদয় হওয়াটা জরুরি ছিল। কারণ আসল ক্রিয়েটররা যদি তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং আর্থিক সুবিধা না পান, তবে তারা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যাবেন। আর তার ফলে এক্স একসময় কেবল চুরি করা কনটেন্ট এবং বিজ্ঞাপনের টাকার জন্য লড়াই করা এক আবর্জনার স্তূপে পরিণত হতো, যা থেকে বাঁচতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: ডিজিটাল ট্রেন্ডস