বাংলাদেশে স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার দাবি সময়ের প্রয়োজন: ভূমিমন্ত্রী

‘স্পোর্টস সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতেই হবে’

‘স্পোর্টস সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতেই হবে’
১৬ মে, ২০২৬ ১৮:৫০  

রাজশাহী: বাংলাদেশে স্পোর্টস সাইন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, “স্পোর্টস সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।” তিনি বলেন, রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসেবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এখান থেকেই এ ধরনের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত।

১৬ মে, শনিবার দুপুরে রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে শহীদ জিয়াউর রহমান শারীরিক শিক্ষা কলেজ আয়োজিত “বাংলাদেশে স্পোর্টস সাইন্স ইউনিভার্সিটি প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী হিসেবে পরিচিত। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই স্পোর্টস সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের জন্য রাজশাহী উপযুক্ত স্থান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়া খাতকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক ভাতা চালুর বিষয়টিও সরকারের ক্রীড়াবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, “রাজশাহী আমাদের গর্ব, এটি আমাদের শেকড়। এই শহর শান্তিপূর্ণ, শিক্ষাবান্ধব এবং ঐতিহ্যবাহী। এখানকার মানুষ ও পরিবেশ একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযোগী।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বড় পরিসরের জায়গার প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরের পূর্ব বা পশ্চিম প্রান্তে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে নওদাপাড়ায় পূর্বনির্ধারিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান বিবেচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেখানে পর্যাপ্ত খাস জমি রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

শহীদ জিয়াউর রহমান শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সালাম বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে অংশ নেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল হোসেন চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলিম এবং ইউট্যাবের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রশিদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারতের পাঞ্জাবি ইউনিভার্সিটির আইসিসিআর ও পিএইচডি ফেলো শারমিন আক্তার শান্তা।

ডিবিটেক/টিআর/এমইউএম