নতুন সরকারের কাছে সমন্বিত নীতি, প্রণোদনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা চায় বাক্কো
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছেন দেশের বিপিও/আউটসোর্সিং শিল্পের বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) সহ-সভাপতি মোঃ তানজিরুল বাসার।
নতুন সরকারের শপথের আগে তার কাছে ডিজিবাংলটেক ডট নিউজ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং টেলিকম খাতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ কি কি বলে মনে করেন?
জবাবে তানজিরুল বাসার বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), ফ্রিল্যান্সিং এবং টেলিকম খাতে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বর্তমানে আউটসোর্সিং খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও পর্যাপ্ত প্রণোদনা ও অবকাঠামোগত সহায়তার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
তাহলে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় কি? এই প্রশ্নের জবাবে মাই আউটসোর্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বললেন, এ প্রেক্ষাপটে ৬% ক্যাশ ইনসেন্টিভ বৃদ্ধি করে ১০% ক্যাশ ইনসেন্টিভ প্রদান করা হলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি দ্রুত “বিপিও ভিলেজ” প্রস্তুত করে আধুনিক অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। অবকাঠামো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা (যেমন স্বল্পমূল্যে অফিস স্পেস, প্রযুক্তি সহায়তা ও কর সুবিধা) প্রদান করলে খাতটি আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের আউটসোর্সিং খাতকে নতুন উচ্চতায় নিতে হলে তাহলে ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকারকে কী করা উচিত হবে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের ক্ষমতায় এসেই আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য ২০৩১ সাল পর্যন্ত আয়কর ও ভ্যাট অব্যাহতি বর্ধিত করার ঘোষণা দেওয়া উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় সহজীকরণের জন্য পেপ্যাল বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সারের জন্য নিরাপদ ও সহজ পেমেন্ট গেটওয়ে নিশ্চিত করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাক্কো’র এই নেতার সঙ্গে আলাপে বোঝা গেলো- সমন্বিত নীতি, প্রণোদনা ও অবকাঠামোগত সহায়তার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতটি। এজন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব কামনা করেন ব্যবসায়ীরা।
ডিবিটেক/ ইএইচ/ এমইউএম







