জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করছে বাংলাদেশ

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করছে বাংলাদেশ
১০ মে, ২০২৬ ১৮:৫৭  

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষা খাতে জলবায়ু-সহনশীল পরিকল্পনা জোরদার করছে সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, ইউনেসকো, ইউনেসকো, ইউনেসকো আইআইইপি, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের সহযোগিতায় ঢাকার হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টার-এ শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালা।

১০ মে, রবিবার থেকে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ (CSESI)’ শীর্ষক এই কর্মশালা আগামী ১২ মে পর্যন্ত চলবে। এতে জাতীয় ও উপ-জাতীয় পর্যায়ের ৩০ জনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষা পরিকল্পনাবিদ অংশ নিচ্ছেন। লক্ষ্য হলো শিক্ষা খাতে বিদ্যমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

কর্মশালার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে বাস্তব তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, শুধু ঝুঁকি চিহ্নিত করা নয়, বরং এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা কার্যকর—তা বিশ্লেষণ করাই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বদরুন নাহার শিক্ষাখাতে জলবায়ু তথ্যব্যবস্থা ও জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মশালায় শিক্ষা প্রশাসন, পরিসংখ্যান ব্যুরো, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার ফলাফলও প্রভাবিত হচ্ছে।

‘ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই কর্মশালা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ, যা ২০২৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষা খাতের জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নীতি, অবকাঠামো ও জলবায়ু অর্থায়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিবিটেক/আরআরটি/এমইউএম