এনইআইআর ইস্যুতে মুখোমুখি বিটিআরসি’র কমিশনার ও মহাপরিচালক

এনইআইআর ইস্যুতে মুখোমুখি বিটিআরসি’র কমিশনার ও মহাপরিচালক
৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৬:২৩  
৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৪১  

মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ আমদানি ও ব্যবহার, হ্যান্ডসেট চুরি ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং সরকারের রাজস্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১ জানুয়ারি থেকে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র মাধ্যমে সিস্টেমটি চালু পরবর্তীতে মোবাইল হ্যান্ডসেটের রিটেইল ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অফ বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিদের সাথে বিটিআরসির কার্যালয়ে কয়েকদ দফা আলোচনা  হয়েছে। ওই আলোচনায়  ব্যবসায়িক কমিউনিটির পক্ষ থেকে কিছু দাবি উথাপিত হয় । সেসব দাবি কতটা আমালে নিয়েছে বিটিআরসি? এছাড়াও চালুর পর বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন গ্রাহক। সেই সমস্যার সমাধান কতদূর? এমন নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন  বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন এবং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আমিনুল হক।  

প্রশ্নঃ এনইআইআর চালুর পর অনেক গ্রাহকই একই এনআইডিতে অধিক সংখ্যক সচল সিম বা অনেকগুলো ফোন নিবন্ধন দেখতে পারছেন। অথচ তারা এতোগুলো ফোন ব্যবহারই করেননি। এটা কেন? 

উত্তরঃ এনইআইআর চালুর পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত নিম্নোলিখিত বেশ কয়েকটি বিষয় বিটিআরসির নজরে এসেছে। এর মধ্যে এই প্রশ্নটি আমরাও জেনেছি। আসলে এনইআইআর সিস্টেমে একজন গ্রাহকের এ যাবত কালের সকল Historic ডেটা সংরক্ষিত আছে, তাই এ ধরনের সংখ্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই নিয়ে কাজ করছে যেন একজন গ্রাহক শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখতে পারেন। আশা করা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে এ ধরনের সমস্যা সমূহ কমে আসবে।  বস্তুত, এখন একজন গ্রাহক এনইআইআর-এ তাদের অনুকূলে অনেক অবৈধ/ Unstructured(অসংগঠিত) আইএমইআই (IMEI) নাম্বার দেখতে পাচ্ছেন। বিষয়টি ক্লোন/কপি/ব্যবহৃত (used)/রিফারবিসড মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ফলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই ধরনের আইএমইআই যেন ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে না পারে তা এনইআইআর সিস্টেম চালুকরণের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

প্রশ্নঃ এনইআইআর চালুর পর সিটিজেন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল অপারেটর থেকে One Time Password (OTP) আসতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটা কেন হচ্ছে? 

উত্তরঃ স্বল্প সময়ে অনেক Registration Request আসার ফলে কিছু গ্রাহক এই বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছেন। এটা মোবাইল অপারেটরদের EIR ব্যবস্থাপনার অংশ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিটিআরসি থেকে সংশ্লিষ্ট সকল মোবাইল অপারেটরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রশ্নঃ অনেক গ্রাহক তাদের তথ্যের নিরাপত্তা অর্থাৎ তথ্য চুরির বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন। এটা কিভাবে দেখছেন?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে, বিটিআরসির পক্ষ থেকে সকলকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, সকল গ্রাহকের সকল তথ্য সিকিউরড তথা নিরাপদ রয়েছে। একজন গ্রাহক কেবল তার নিজস্ব তথ্য দেখতে পারবেন, অন্য কেউ দেখতে পারবেন না।সর্বোপরি, এনইআইআর চালুর পরবর্তী সময়ে অধিক গ্রাহকের জিজ্ঞাসা (Call/Query) একই সাথে আসার ফলে গ্রাহকগণ যে সকল বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা অতি দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া, গ্রাহকের যে কোন সমস্যা বা জিজ্ঞাসা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার অথবা বিটিআরসির হটলাইন নাম্বার “১০০” তে জানানোর অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধান করা হবে।

প্রশ্নঃ এনইআইআর চালুর বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন তাদের অন্যতম দাবি ছিলো- মোবাইল ফোন আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা ও আমদানি শুল্ক কমানো। তা কতটা আমলে নেয়া হয়েছে?

জাবাবঃ এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিটিআরসি থেকে জানানো হয়েছে যে, মোবাইল ফোন আমদানির জন্য বর্তমানে যে প্রক্রিয়া রয়েছে এবং কাগজপত্র দাখিল করতে হয় তা শিথিল করা হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেন্ডর এনলিষ্টমেন্ট সনদ প্রদান করা হবে। মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য মোবাইল ফোনের অরিজিনাল উৎপাদনকারীর সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে যেকোনো অথরাইজড ডিলারের ডকুমেন্টস দাখিল সাপেক্ষে হ্যান্ডসেট আমদানি করা যাবে। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা অর্থাৎ হ্যান্ডসেটের বিক্রয় পরবর্তী সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ন্যূনতম এই সার্টিফিকেট দাখিল করা প্রয়োজন। 

অপরদিকে বিগত ১ বছরের অধিক সময়ে বেশ কয়েকবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির পক্ষ থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি শুল্ক হ্রাসকরণের জন্য এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে জানানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মোবাইল হ্যান্ডসেটের শুল্ক সরকার কর্তৃক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে। পূর্বে আমদানির ক্ষেত্রে প্রায় ৬১% শুল্ক ছিল, বর্তমানে তা কমিয়ে প্রায় ৪৩% করা হয়েছে। 

প্রশ্নঃ বর্তমানে ব্যবসায়ীদের কাছে অবিক্রিত/স্থিত হ্যান্ডসেট রয়েছে সেগুলোর কি হবে?

জবাবঃ এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগেই জানানো হয়েছে। অবিক্রিত/স্থিত হ্যান্ডসেট সমূহকে নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ রাখতে  নামমাত্র শুল্ক প্রদান করে কোন কাগজ ব্যতিরেকে অবিক্রিত/স্থিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি যে সকল হ্যান্ডসেটের আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে সেগুলো নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ করা হবে। আসলে সাতটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের অবিক্রিত ফোনের আইএমইআই এর তালিকা প্রদান করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান দেয়নি তাদেরকে হয়তো ভুল বোঝানো হচ্ছে অথবা তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে। 

প্রশ্নঃ ব্যবসায়ীরা চান, স্বল্পে মূল্যে গ্রাহকের কাছে হ্যান্ডসেট তুলে দিতে পুরনো মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির করতে দিতে হবে...  

জবাবঃ পুরনো হ্যান্ডসেট আমদানি অনুমোদনের বিষয়টি বিটিআরসির আওতাভুক্ত নয়। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন । বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পুরনো পণ্য আমদানির তালিকাতে মোবাইল হ্যান্ডসেটের নাম উল্লেখ নেই। মোবাইল হ্যান্ডসেটের মানের ওপর সেবার গুণগত মান নির্ভরশীল, তাই হ্যান্ডসেট ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্খিতমানের সেবা প্রাপ্তির জন্য হ্যান্ডসেটের গুণাগুণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো হ্যান্ডসেটসমূহ কি পর্যায়ে রয়েছে বা কোন কোয়ালিটিতে আমদানি হচ্ছে তা যাচাই করা সম্ভব হয়না। তাই পুরনো যেকোনো হ্যান্ডসেট ক্রয়ে গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার আশংকা থাকে। 

ডিবিটেক/এমইউএম