ল্যাবএইডে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার

ল্যাবএইডে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার
২১ মে, ২০২৬ ১৯:০৮  

বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ক্যানসার নিরাময় সেবার পরিধি বাড়াতে উন্নত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন (বিএমটি) অ্যান্ড সেল থেরাপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। ২১ মে, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে দেশের অনকোলজি ও হেমাটোলজি চিকিৎসাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই উন্নত মেডিকেল উইং চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামিম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান চিকিৎসক এ এম শামিম, পরিচালক মাস্তুরা ফারজানা মোহনা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসক সুচিত কুমার দাস এবং প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ। সাকিফ শামিম জানান, বৈশ্বিক মানদণ্ড ও আধুনিক প্রযুক্তি দেশের ক্যানসার চিকিৎসা খাতে যুক্ত করতে ল্যাবএইড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অত্যাধুনিক থেরাপি সেন্টারটি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় এক বড় ডিজিটাল ও কারিগরি সংযোজন।

অনুষ্ঠানে সেন্টারের অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক চিকিৎসক মো. সালাহউদ্দীন শাহ। তিনি জানান, দেশের মাটিতেই বিশ্বমানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সুবিধা পাওয়ায় এখন থেকে জটিল রক্তরোগ ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবে। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির হেমাটোলজি ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকবৃন্দ, যার মধ্যে অন্যতম প্রফেসর ডাক্তার আলমগীর কবির, প্রফেসর ডাক্তার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মাসুমা আহমেদ সালসাবিল, ডা. মাফরুহা আক্তার ছাড়াও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই নতুন বিএমটি সেন্টারে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মানের হেপা-ফিল্টারযুক্ত আইসোলেশন কেবিন এবং স্বয়ংক্রিয় অটোলোগাস ও অ্যালোজেনিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে উন্নত ল্যাব টেস্টের জন্য ফ্লো সাইটোমেট্রি, ফিশ (FISH) এবং মলিকুলার টেস্টিংয়ের মতো অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে; যা লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মায়লোমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য চব্বিশ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে।
সূত্রমতে, ল্যাবএইডের নতুন চালু হওয়া উন্নত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (বিএমটি) ও কোষ চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের জন্য বৈশ্বিক মানদণ্ডের জটিল সব আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা দেশের ক্যানসার ও রক্তরোগ চিকিৎসায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক কম থাকায় এই সেন্টারে তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও বিশেষ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত আলাদা কেবিন ব্লক। এর পাশাপাশি বাতাস থেকে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা ও ক্ষতিকর জীবাণু শতভাগ ছেঁকে নেওয়ার জন্য প্রতিটি কেবিনে আন্তর্জাতিক মানের হেপা-ফিল্টারযুক্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

এই সেন্টারে রোগীর রক্ত উৎপাদনকারী ত্রুটিপূর্ণ অস্থিমজ্জা পরিবর্তনের জন্য আধুনিক দুই ধরনের প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনাই সচল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রোগীর নিজের শরীর থেকে সুস্থ কোষ নিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রক্রিয়াকে অটোলোগাস এবং অন্য কোনো উপযুক্ত দাতার শরীর থেকে সুস্থ কোষ নিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রযুক্তিকে অ্যালোজেনিক সেবা বলা হচ্ছে। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে রক্তরোগ, ক্যানসার ও প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ যৌথ মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল।

রোগীর ব্লাড ক্যানসার বা রক্তের শ্বেতকণিকা ও মজ্জার বিভিন্ন জটিল ক্যানসার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সেন্টারে আনা হয়েছে বিশ্বমানের কিছু ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে লেজার রশ্মির সাহায্যে রক্ত ও কোষের অস্বাভাবিকতা পরীক্ষার জন্য ফ্লো সাইটোমেট্রি ও ফিশ এবং ক্যানসারের জিনগত গঠন ও ডিএনএ-র রূপ বদল ধরার জন্য সাইটোজেনেটিক্স ও মলিকুলার টেস্টিংয়ের মতো উন্নত ল্যাব সুবিধা অন্যতম।

//ডিবিটেক/এসআর/ইকে//