ডিও বাস্তব্য়নের আগ পর্যন্ত জেনারেটরের বিলও দেবেন মন্ত্রী 

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি টেলিকম মন্ত্রীর

১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সংকটে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিচ্ছে না মধুপুর হাসপাতাল

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি টেলিকম মন্ত্রীর
৩০ মে, ২০২৬ ১০:০০  

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে এখনো পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ঈদের পরের দিন শুক্রবার বিকেলে তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মো. জুবায়ের হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন খান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এম রতন হায়দার, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজিব কান্তি পালসহ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। শিশু রোগীদের সঙ্গেও সময় কাটান তিনি। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার সেমিনার কক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর ছাড়াও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো প্রয়োজনীয় রাজস্বখাতের জনবল সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে এমএসআর, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সীমিত জনবল দিয়েই ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য নতুন স্টোর ভবন, সীমানা প্রাচীর, সোলার প্যানেল, সাবমারসিবল মোটর ও পানির লাইন, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পিট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণের দাবি জানায়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সরবরাহের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইচএসএস স্কোরিংয়ে একাধিকবার দেশের সেরা হাসপাতালের স্বীকৃতি অর্জন করেছে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে এটি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেল হাসপাতালে পরিণত হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার বিষয় তুলে ধরে গত ২১ মে ২০২৬ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলো তদারকি করছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। সোলার প্যানেল স্থাপনের আগ পর্যন্ত হাসপাতালের জেনারেটরের বিল ব্যক্তিগতভাবে বহনের আশ্বাসও দেন তিনি।

/ডিবিটেক/জেডইউ/আইএইচ/