সফটওয়্যার খাতে করছাড় ও ডিজিটাল রূপান্তরে জোর দিয়ে প্রাক-বাজেট বৈঠকে বেসিসের ১০ দফা প্রস্তাব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে কর কাঠামো সহজীকরণ, প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরে জোর দিয়ে ১০ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে ২৬ এপ্রিল, রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনটির পক্ষে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য এবং স্পেকট্রাম সফটওয়্যার অ্যান্ড কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশফিকুর রহমান। এসময় বেসিস গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের গবেষণা সহকারী মো: জুলফিকার হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সামনে প্রস্তাবনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবনায় বেসিস জানায়, বর্তমানে এইচএস কোড ৮৫২৩৪৯২১-এর আওতায় অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেইজ, ডেভেলপমেন্ট টুলসসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর মোট করভার ৪২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্থানীয় সফটওয়্যার উৎপাদনে ব্যবহৃত বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে দেশে উৎপাদনযোগ্য সফটওয়্যার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স রিটার্নে আমদানি শুল্ক পরিশোধের তথ্য সংযুক্ত করে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।
প্রস্তাবে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সফটওয়্যার রপ্তানিতে বর্তমানে বহাল ৬ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আরও বাড়ে।
সফটওয়্যার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবাকে আইটিইএস হিসেবে স্পষ্টভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে এ খাতে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ এবং আয়কর আইনের আওতায় কর অব্যাহতি দিয়ে উৎসে কর কর্তন থেকে অব্যাহতির বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়।
বেসিস আরও উল্লেখ করে, বড় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালান কপি সরবরাহ করে না, ফলে কোম্পানিগুলো জটিলতায় পড়ে। এ ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে চালান কপি প্রদান বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, কর অব্যাহতি সুবিধার কারণে এসব সেবায় উৎসে কর প্রযোজ্য নয়—এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছে সংগঠনটি।
ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে বেসিস প্রস্তাব করে, ভ্যাট আদায়যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানে সার্টিফায়েড পিওএস সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করে রিয়েল-টাইম ভ্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীদের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট প্রদানের ক্ষেত্রেও এই শর্ত আরোপের সুপারিশ করা হয়।
সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরেও জোর দিয়ে বেসিস জানায়, সব নাগরিক ও ব্যবসায়িক সেবা অনলাইনভিত্তিক করতে হবে এবং ‘ম্যানেজড সার্ভিস’ মডেলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বাজেটে এ জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
এছাড়া ভূমি, মার্কেট লিজ, ট্রেড লাইসেন্স ও টোলসহ সরকারি রাজস্ব আয় ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি এবং অনলাইনে আদায়-ব্যয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে বেসিস সহযোগী কমিটির সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সফটওয়্যার শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে।
ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
Oct 8, 2026
Oct 24, 2026
Sep 24, 2026
৩১ অক্টোবর, ২০২৬
৩১ অক্টোবর, ২০২৬
৩১ অক্টোবর, ২০২৬
৩১ অক্টোবর, ২০২৬
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
Total Vote: 45
হ্যা
Total Vote: 57
আশীর্বাদ

