নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার চান বিসিএস সভাপতি

ডিজিটাল অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার চান বিসিএস সভাপতি
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০  
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৮  

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প নিয়ে টানা ১৫ বছরে আগের সরকারের কার্যক্রমে অর্থপাচার ও দুর্নীতিসহ নানা বিতর্ক, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ঘাটতি ও ব্যয়–দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই খাত নিয়ে প্রতাশিত দুইট শ্বেতপত্রে। এমন প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে নতুন সরকারের সামনে ডিজিটাল অবকাঠামোর মানোন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

নতুন সরকার শপথ গ্রহণের আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ডিজিবাংলাটেককে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বর্তমানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে ডিজিটাল অবকাঠামোর মানোন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ছে।

একই সঙ্গে দেশীয় সফটওয়্যার ও আইটি শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে নীতিগত সহায়তা, কর-সুবিধা ও রপ্তানি প্রণোদনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন দেশের আইসিটি খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই ব্যবসায়ী নেতা।

তার ভাষায়, টেলিকম খাতে উচ্চ করহার, স্পেকট্রামের উচ্চ মূল্য এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড কম্পিউটিং ও উদ্ভাবনী গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

“বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর পক্ষ থেকে আমাদের প্রত্যাশা, সরকার বেসরকারি খাতকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে এবং নীতি প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করবে”—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সহজ অর্থায়ন এবং সরকারি সেবার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরেও জোর দাবি জানান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সমন্বিত নীতির মাধ্যমে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাত বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হবে।”

আলাপকালে বোঝাগেলো বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতকে রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সরকারের কাছে অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি ও সুষম বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

ডিবিটেক/এমএআর/এমইউএম