জরুরি সেবায় নতুন পরিকল্পনা

উবারের আদলে আসছে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক

উবারের আদলে আসছে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক
২৯ মে, ২০২৬ ০০:০০  

ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে অ্যাপ বা কল সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকার ব্যবস্থা করা হবে। পরিকল্পনাটি অনেকটা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘উবার’-এর আদলে হতে পারে। একই সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণ, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং জরুরি সেবার সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়েও কাজ চলছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে প্রাথমিকভাবে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাইডলাইন প্রণয়ন, সেবার পরিধি নির্ধারণ, রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো তৈরি, অ্যাম্বুলেন্স ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্য হেল্পলাইন ১৬২৬৩-কে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। শুরুতে রাজধানী ঢাকায় পাইলট প্রকল্প চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের স্বাস্থ্যসেবা অংশে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে যেন কোনো জীবন ঝরে না যায়, সে লক্ষ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

এ প্রতিশ্রুতির আলোকে গত ২৩ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে একটি প্রাথমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে কীভাবে একই নেটওয়ার্কে আনা যায় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার কাঠামো কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, থাকলেও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের অভাবে অনেক সময় জরুরি রোগীরা সময়মতো সেবা পান না। এক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স খালি থাকলেও অন্য এলাকায় রোগীকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এই বাধা দূর করতে অ্যাপ কিংবা কল সেন্টারের মাধ্যমে নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্স শনাক্ত করে রোগীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে সরকার। একই সঙ্গে এমআইএসভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমেও রোগী, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করা হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) মো. খোরশেদ আলম জানান, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনার অধীনে অ্যাপভিত্তিক কিংবা কল সেন্টারনির্ভর একটি সিস্টেম নিয়ে ভাবা হচ্ছে, যেখানে উবারের মতো সহজে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা যাবে। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় নেটওয়ার্ক চালু হলে সরকার কিলোমিটারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর আদলে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টার চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বিআরটিএ, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বড় পরিসরে বৈঠক করা হবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পরিচালিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খাতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট নতুন এই ব্যবস্থার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তারপরও জনস্বার্থে কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদী সরকার।

/ডিবিটেক/ জেএনও/ ইকে/