চ্যাটজিপিটি থেকে নোটবুকএলএম, হাতে-কলমে এআই শিখলেন ৬০০ সাংবাদিক

ডিআরইউ’র সাত দিনের কর্মশালায় গুরুত্ব পেল ফ্যাক্ট-চেকিং, ডিপফেইক শনাক্তকরণ ও এআই টুল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ

চ্যাটজিপিটি থেকে নোটবুকএলএম, হাতে-কলমে এআই শিখলেন ৬০০ সাংবাদিক
৮ মে, ২০২৬ ২০:১৭  

গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে দক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও এখন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৮ মে, শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত সাত দিনব্যাপী “AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর শফিকুল কবির মিলনায়তন-এ আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন ব্যাচে মোট ৬০০ সাংবাদিক অংশ নেন। আয়োজন করে ডিআরইউ, সহযোগিতায় ছিল XYZ Cloud BangladeshGamiphy

সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্টন বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।” তিনি তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, এআই ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুইভাবেই ব্যবহৃত হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে প্রযুক্তির সঠিক ও কল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।”

ডিআরইউ’র তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রশিক্ষণের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভিডিও বার্তায় মশিউর রহমান বলেন, “ফেক নিউজ ও ভুয়া ভিডিওর এই সময়ে বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই সাংবাদিকদের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।”

মাহফুজুর রহমান বলেন, এআই যুগে অপতথ্য ও ডিপফেইকের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আকতার হোসেন ও আল আমিন আজাদসহ অন্যান্য নেতারা।

সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় ChatGPT, Gemini, Google AI Studio এবং NotebookLM-সহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলের ব্যবহার।

প্রশিক্ষণে গুরুত্ব পায় কার্যকর প্রম্পটিং, ডেটা সাংবাদিকতা, তথ্য বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এআই-এর ব্যবহার, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ডিপফেইক শনাক্তকরণ। অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘ অডিও, ভিডিও ও পিডিএফ ফাইল থেকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা, স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, শিরোনাম তৈরি ও তথ্য যাচাইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইমাম হাসান সোহেল।

ডিবিটেক/এজেডআর/ইকে