প্রযুক্তির যুগে নৈতিক শিক্ষা ছাড়া মেধার সঠিক ব্যবহার সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রযুক্তির যুগে নৈতিক শিক্ষা ছাড়া মেধার সঠিক ব্যবহার সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী
১০ মে, ২০২৬ ১৫:০২  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাস্তবতায় শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায়ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে মেধা ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সতর্ক বার্তা দিলেন মন্ত্রী।

১০ মে, রবিবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নুরুল হক। 

এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মো. মঈনউদ্দিন খান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে নৈতিকতার বিকল্প নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা সাইবার বুলিং প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আর পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অহিংস আচরণ চর্চার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে নৈতিক শিক্ষা সহায়তা করে। একজন নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সর্বদা তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি সচেতন থাকে। এটি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, বরং কর্মক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।  সমাজে সুশাসন ও স্বচ্ছতা আনতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। সততা ও ন্যায়ের চর্চা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অন্যায়কে সমাজ থেকে নির্মূল করতে সাহায্য করে।

সেমিনার শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী। 

এর আগে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে উঠছে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই এখন প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আধুনিকায়ন করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর জোর দিতে হবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির এই সময়ে তরুণদের শুধু ডিজিটাল লিটারেসি শেখালেই হবে না, তাদের মনোজগতে নৈতিকতার বীজও রোপণ করতে হবে। কারণ নৈতিক শিক্ষা ছাড়া জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা রাষ্ট্রনায়কের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হলে তার প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। তাই শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুকুমার বৃত্তি, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, “জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে কিছু পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার চর্চা জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামে এর প্রতিফলন থাকতে হবে।”

এসময় অতীতে দেশে মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ সীমিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। ‘বর্তমানে মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে’ মন্তব্য কমে এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।  

ডিবিটেক/এমআই/ইকে