মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়করের প্রতিবাদে সংসদ ভবনের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন

মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়করের প্রতিবাদে সংসদ ভবনের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন
২২ মে, ২০২৬ ১৭:৩২  

মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে এআইটি বা অগ্রিম আয়কর আদায়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিকল্পনার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন বাইকার গ্রুপের সদস্যরা। ২২ মে, শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক বাইকার অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাইকাররা বলেন, তারা সরকারের বিপক্ষে নন। তবে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত অন্যায্য। একজন বাইকারের প্রকৃত আয় কত বা আদৌ আয় আছে কি না, তা যাচাই না করেই কর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাইকারদের ভাষ্য, মোটরসাইকেল অনেকের কাছে বিলাসিতা নয়, বরং জীবিকা ও নিত্যপ্রয়োজনের অংশ। কেউ ৮০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান, অথচ তাকেও অগ্রিম কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, দেড় লাখ টাকার আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এমন কর না থাকলেও জীবিকার বাহন মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কেন।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, প্রায় ৪৮ লাখ বাইকারকে প্রভাবিত করবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার কোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেনি। বিভিন্ন বাইকার গ্রুপের সদস্যরা ব্যানার ছাড়াই একসঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যা তাদের ঐক্যের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বাইকারদের প্রধান দাবি দুটি হলো— অগ্রিম আয়কর বাতিল এবং আইন বা এসআরও জারির আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা। তারা বলেন, মোটরসাইকেল কেনার সময়ই প্রায় ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এরপর আবার অগ্রিম কর আরোপ ‘জুলুমের শামিল’। তবে আর্থিক বছর শেষে নিয়ম অনুযায়ী আয়কর দিতে তাদের আপত্তি নেই।

বাংলাদেশ ভেসপা কমিউনিটির অ্যাডমিন দিদার ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমি কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ বাইকার হিসেবে এসেছি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বাইকারদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।’

//ডিবিটেক/ডিপিও/এমইউএম //