স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫৭: মিড-রেঞ্জের বাজারে নতুন প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা
স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় ‘এ’ সিরিজের নতুন স্মার্টফোন ‘গ্যালাক্সি এ৫৭’ বিশ্ববাজারে উন্মোচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে বাজারে আসা এই ফোনটি মূলত গত বছরের সফল মডেল এ৫৬-এর উত্তরসূরি। তবে কেবল নামেই নয়, ডিজাইনে বড় পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্টের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মধ্যম বাজেটের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
নকশায় আভিজাত্যের ছোঁয়া
গ্যালাক্সি এ৫৭ হাতে নিলে প্রথমেই যা নজরে পড়ে, তা হলো এর স্লিম বডি। স্যামসাংয়ের দাবি অনুযায়ী, এটি এ-সিরিজের ইতিহাসের সবচেয়ে পাতলা ফোন, যার পুরুত্ব মাত্র ৬.৯ মিলিমিটার। ওজন মাত্র ১৭৯ গ্রাম হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে হাতে ক্লান্তি আসবে না।
প্রিমিয়াম অনুভূতির জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল ফ্রেম ও গ্লাস ব্যাক। ধুলোবালি ও পানির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে এতে রয়েছে আইপি৬৮ রেটিং, যা দেড় মিটার গভীর পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখবে। সুরক্ষায় আরও যোগ হয়েছে গরিলা গ্লাস ভিক্টাস প্লাস।
ঝকঝকে ডিসপ্লে
স্যামসাংয়ের সিগনেচার সুপার অ্যামোলেড প্লাস প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে ফোনটিতে। ৬.৭ ইঞ্চির এই বড় পর্দায় থাকছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। এর ১৯০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখার ক্ষেত্রে দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে। বিশেষ করে যারা ফোনে ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এইচডিআর১০+ সাপোর্ট বাড়তি পাওনা।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
ভিতরে রয়েছে স্যামসাংয়ের নিজস্ব ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এক্সিনোস ১৬৮০ চিপসেট। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন এক্সক্লিপস ৫৫০ জিপিইউ। সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে মাল্টিটাস্কিং—সবই হবে সাবলীল। গেমিংয়ের সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে ফোনটিতে বড় আকারের ভেপর চেম্বার রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো এর সফটওয়্যার সাপোর্ট। অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক ওয়ান ইউআই ৮.৫ চালিত এই ফোনে স্যামসাং ৬ বছরের ওএস ও সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মধ্যম বাজেটের ফোনে এমন দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট বিরল।
ক্যামেরা: সফটওয়্যারের ম্যাজিক
ফোনটির ক্যামেরা হার্ডওয়্যার গত বছরের মতো হলেও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় ছবির মানে বড় পরিবর্তন এসেছে।
- পেছনে: ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন (OIS), ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড এবং ৫ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো লেন্স।
- সেলফি: ১২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
কম আলোতে ছবি তোলার জন্য ‘নাইটোগ্রাফি’ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু মুছে ফেলার ‘অবজেক্ট ইরেজার’ ফিচারগুলো এখন আগের চেয়ে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য এতে যুক্ত হয়েছে অটো ট্রিম ও ভয়েস ট্রান্সক্রিপশনের মতো সুবিধা।
ব্যাটারি ও চার্জিং
৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি থাকলেও ফোনটি কিন্তু বেশ হালকা। স্যামসাং বলছে, স্বাভাবিক ব্যবহারে ২ দিন পর্যন্ত চার্জ থাকবে। এবার এতে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং যুক্ত করা হয়েছে, যা আধা ঘণ্টায় ৬০ শতাংশ চার্জ পূর্ণ করতে সক্ষম। তবে বক্সের ভেতর চার্জার না পাওয়ার আক্ষেপ এবারও থাকতে পারে গ্রাহকদের।
একনজরে গ্যালাক্সি এ৫৭
ডিসপ্লে ৬.৭ ইঞ্চি Super AMOLED+, ১২০Hz
প্রসেসর Exynos 1680 (4nm)
র্যাম ও স্টোরেজ ৮/১২ জিবি র্যাম, ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ
ক্যামেরা ৫০+১২+৫ মেগাপিক্সেল (পেছনে), ১২ মেগাপিক্সেল (সামনে)
ব্যাটারি ৫০০০ mAh, ৪৫ ওয়াট চার্জিং
কেন কিনবেন?
অসাধারণ স্লিম ও প্রিমিয়াম ডিজাইন।
৬ বছরের দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেট।
পানিরোধী মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি।
চমৎকার ডিসপ্লে ও নাইট ফটোগ্রাফি।
কেন কিনবেন না?
দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেশি।
ম্যাক্রো ক্যামেরা আরও উন্নত হতে পারত।
প্রতিযোগীদের তুলনায় চার্জিং স্পিড কিছুটা ধীর।
দাম কত?
বিশ্ববাজারে ফোনটির দাম আগের মডেলের চেয়ে প্রায় ৫০ ইউরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের বাজারে এর দাম প্রায় ৫৭ হাজার রুপি। বাংলাদেশে অফিসিয়ালি উন্মোচন হলে এর সম্ভাব্য দাম হতে পারে ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে। নিরাপদ সেবা ও ওয়ারেন্টির জন্য অফিসিয়াল সোর্স থেকে ফোনটি কেনার পরামর্শ দিচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
আপনি যদি এমন একটি ফোন খুঁজছেন যা দেখতে সুন্দর, দীর্ঘ কয়েক বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে এবং যার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রশ্নাতীত—তবে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫৭ হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।
ডিবিটেক/বিএমটি







