অসমাপ্ত ডিজিটাল বিপ্লব:  বাংলাদেশের সবার কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাবে কীভাবে

নেটওয়ার্কের আওতা বাড়লেই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন সাশ্রয়ী সংযোগ, মানসম্মত সেবা, উপযুক্ত ডিভাইস, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা

অসমাপ্ত ডিজিটাল বিপ্লব:  বাংলাদেশের সবার কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাবে কীভাবে
৫ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:১৬  
৫ আগষ্ট, ২০২৬ ১৮:৫৫  

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকেত দেখা যায়। শহরের বিপণিবিতান থেকে উপকূলের গ্রাম পর্যন্ত স্মার্টফোন মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। সরকারি সেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, চাকরির আবেদন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ক্রমেই অনলাইননির্ভর হয়ে উঠছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব প্রায় সম্পন্ন।

কিন্তু নেটওয়ার্কের মানচিত্র আর মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এক নয়।
একজন কৃষক মোবাইল ফোনে সংকেত পেলেও প্রয়োজনের সময় আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য নাও পেতে পারেন। একজন শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন থাকলেও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস করার মতো ডেটা কেনার সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। একজন নারী পরিবারের ফোন ব্যবহার করতে পারলেও সেটির ওপর তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। আবার কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ইন্টারনেটে যুক্ত হলেও ডিজিটাল সেবার নকশা তাঁর জন্য ব্যবহারযোগ্য না-ও হতে পারে।

এই বাস্তবতাই বলে দেয়, ইন্টারনেটের বিস্তার হয়েছে, কিন্তু ডিজিটাল বিপ্লব এখনো অসমাপ্ত।

সংযোগ আছে, ব্যবহার নেই
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের তথ্যচিত্র “The Unfinished Digital Revolution: Expanding Internet Access” একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। নেটওয়ার্ক মানুষের বসতির কাছাকাছি পৌঁছানো আর মানুষ বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়। ২০২৫ সালেও বিশ্বে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ অফলাইনে ছিল। অবকাঠামোর ঘাটতি এর একটি কারণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। উচ্চ ব্যয়, ডিভাইসের অভাব, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অনুপস্থিতিও মানুষকে অনলাইনের বাইরে রাখে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপক সুফল না দিয়ে বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারনেট অ্যাকসেস অ্যাটলাস
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্যেও একই চিত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আইসিটি জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে।

আরও উদ্বেগজনক হলো ভৌগোলিক বৈষম্য। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অথচ গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যবধান ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। একই জরিপে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্পিউটার ব্যবহারের হার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। বিবিএস জরিপের প্রতিবেদিত ফলাফল

এই ব্যবধান শুধু সংখ্যার নয়। এটি শিক্ষা, আয়, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ব্যবধান।

ইন্টারনেটের প্রকৃত মূল্য কোথায়
ইন্টারনেটকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিনোদন বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে এটি প্রায় মৌলিক অবকাঠামোর ভূমিকা পালন করছে। একজন শিক্ষার্থী ভর্তি, বৃত্তি ও পাঠ্যসামগ্রী খুঁজে পায় অনলাইনে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করেন, পণ্যের বাজার তৈরি করেন এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। প্রবাসী পরিবারের কাছে অর্থ পাঠান। কৃষক বাজারদর ও আবহাওয়ার খবর জানতে পারেন। নাগরিক সরকারি চাকরি, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার তথ্য পান।

কিন্তু এই সেবাগুলো যখন “ডিজিটাল ফার্স্ট” হয়ে যায়, তখন অফলাইনে থাকা মানুষ শুধু ইন্টারনেট থেকে নয়, রাষ্ট্র ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকেও বাদ পড়েন।

এই কারণে ইন্টারনেট সংযোগকে আর কেবল টেলিযোগাযোগ খাতের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় উন্নয়ন প্রশ্ন।

সিমকার্ড সংযোগের প্রমাণ নয়
বাংলাদেশে ডিজিটাল অগ্রগতি মাপতে প্রায়ই মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন অথবা নেটওয়ার্ক কভারেজের সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এই সূচকগুলো প্রয়োজনীয়, তবে অসম্পূর্ণ।

এক ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন। আবার একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য একটি স্মার্টফোন ভাগ করে নিতে পারেন। নিবন্ধিত সংযোগ থাকলেও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা না-ও হতে পারে। ডেটার দাম, দুর্বল গতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা মানসম্মত ডিভাইসের অভাবে কার্যকর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাই নীতিনির্ধারণে “কতটি সংযোগ আছে” প্রশ্নের পাশাপাশি জানতে হবে:

কে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন?
কোন ডিভাইস দিয়ে এবং কী মানের সংযোগে ব্যবহার করছেন?
ডেটা ও ডিভাইস কিনতে আয়ের কত অংশ ব্যয় হচ্ছে?
নারী ও কিশোরীরা নিজের ডিভাইস স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন কি না?
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ভাষাগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবাগুলো ব্যবহারযোগ্য কি না?
নাগরিকেরা নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনলাইন সেবা নিতে পারছেন কি না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না জানলে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি পরিমাপ করা যাবে না।

ব্যয়ের বাধা
বিবিএস জরিপে ইন্টারনেট সেবার উচ্চ ব্যয় এবং ডিভাইসের দামকে ব্যবহারের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি শুধু একটি ডেটা প্যাকের দাম কত, তা দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। দেখতে হবে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাসিক আয়ের কত অংশ নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখতে ব্যয় হয়।

একটি পরিবারের কাছে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ মেটানোর পর ইন্টারনেট কেনা যদি বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়, তবে নেটওয়ার্কের উপস্থিতি কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আনবে না। অনিয়মিত বা অল্প ডেটার সংযোগ দিয়ে ভিডিওভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, টেলিমেডিসিন কিংবা অনলাইন ব্যবসা চালানোও সম্ভব নয়।

সরকারের তাই সাশ্রয়ী মূল্যের ন্যূনতম ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং ডিভাইসের করকাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি যেন রাজনৈতিক সুবিধা বা অপচয়ের ব্যবস্থায় পরিণত না হয়। উপকারভোগী নির্বাচন, সেবার মান এবং ফলাফল প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্য হতে হবে।

গ্রামকে শহরের দুর্বল সংস্করণ ভাবা যাবে না
গ্রামীণ সংযোগের সমস্যার সমাধান শহরের মডেল হুবহু নকল করে হবে না। চর, হাওর, দ্বীপ, পাহাড়, উপকূল এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। বাণিজ্যিকভাবে কম লাভজনক এলাকায় অপারেটররা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে অনাগ্রহী হতে পারে।

ফলে সর্বজনীন সেবা তহবিলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কী ফল দিচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রয়োজন। ফাইবার, মোবাইল ব্রডব্যান্ড, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, স্থানীয় ওয়াই-ফাই কেন্দ্র এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার বিবেচনা করতে হবে। কোনো একটি প্রযুক্তিকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।

পাশাপাশি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডাকঘর, গ্রন্থাগার ও কমিউনিটি রেডিওকেন্দ্রকে জনস্বার্থভিত্তিক ডিজিটাল সংযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এসব স্থান শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেবে না, স্থানীয় মানুষকে সেবা গ্রহণে সহায়তাও করতে পারবে।

ডিজিটাল দক্ষতা মানে অ্যাপ চালানো নয়
ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা আর ডিজিটালভাবে সক্ষম হওয়া এক নয়। ফেসবুক বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারলেও অনেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি, প্রতারণা শনাক্ত, গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ কিংবা সরকারি অনলাইন ফরম পূরণ করতে পারেন না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে এই দক্ষতার ঘাটতি আরও গুরুতর হবে। মানুষ শুধু ভুল তথ্য গ্রহণ করবেন না, তাঁদের ছবি, কণ্ঠ ও ব্যক্তিগত তথ্যও অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়বে। নারী ও মেয়েরা প্রযুক্তি-সহায়িত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, ভুয়া পরিচয়, ব্ল্যাকমেল এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্টের বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তাই ডিজিটাল সাক্ষরতায় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, তথ্য যাচাই, অনলাইন অধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অভিযোগ প্রতিকারের শিক্ষা যুক্ত করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ স্থানীয় ভাষা ও বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে হতে হবে। একদিনের কর্মশালা দিয়ে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না।

ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ডিজিটাল অর্থনীতি চলে না
ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনায় আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নাগরিককে সংযুক্ত করার পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেবা বন্ধ করে দিলে সেই সংযোগকে নির্ভরযোগ্য বলা যায় না।

ইন্টারনেট বন্ধ হলে শুধু সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হয় না। ব্যাংকিং, রপ্তানি, ফ্রিল্যান্সিং, সংবাদমাধ্যম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জরুরি যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাইলে সংযোগের ধারাবাহিকতাকে আইনি ও নীতিগতভাবে রক্ষা করতে হবে। যেকোনো বিধিনিষেধ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক, সময়সীমাবদ্ধ এবং স্বাধীন পর্যালোচনার আওতাভুক্ত।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার নামে নির্বিচার নজরদারি বা মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা হলে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে আস্থা হারাবে। নিরাপত্তা এবং অধিকারকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ ভাবা ভুল। গণতান্ত্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থায় দুটিই প্রয়োজন।

পাঁচটি জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশের অসমাপ্ত ডিজিটাল বিপ্লব সম্পন্ন করতে অন্তত পাঁচটি পদক্ষেপ জরুরি।

প্রথমত, জেলা, লিঙ্গ, বয়স, আয়, প্রতিবন্ধিতা ও গ্রাম-শহরভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় গড় বৈষম্য আড়াল করে।

দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট ও উপযুক্ত ডিভাইসের ব্যয়কে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।

তৃতীয়ত, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফাইবার, মোবাইল, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

চতুর্থত, বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা পর্যন্ত ব্যবহারিক ডিজিটাল, মিডিয়া ও এআই সাক্ষরতা চালু করতে হবে।

পঞ্চমত, ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশের মাধ্যম হিসেবে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য দরকার স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা, সেবার মান প্রকাশ এবং সহজ অভিযোগ প্রতিকার।

কেবল অনলাইনে আনা যথেষ্ট নয়
বাংলাদেশের সামনে এখন পছন্দটি স্পষ্ট। আমরা এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি, যেখানে দ্রুতগতির সংযোগ, উন্নত ডিভাইস এবং নতুন প্রযুক্তির সুবিধা প্রধানত শহরের সচ্ছল জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকবে। অথবা ইন্টারনেটকে এমন একটি জনস্বার্থভিত্তিক অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, যা একজন উপকূলীয় নারী, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র কৃষক, প্রতিবন্ধী নাগরিক এবং শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমিককেও বাস্তব সুযোগ দেয়।

সাফল্যের মাপকাঠি আর কতটি টাওয়ার বসানো হলো বা কতটি সিম নিবন্ধিত হলো, সেটি হতে পারে না। আসল প্রশ্ন হলো, মানুষ সংযোগটি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছে কি না, সেটি তার জীবন ও জীবিকায় মূল্য যোগ করছে কি না এবং ব্যবহারের সময় তার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা পাচ্ছে কি না।

বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব তখনই সম্পন্ন হবে, যখন ইন্টারনেট কেবল সবার নাগালের মধ্যে নয়, সবার সামর্থ্য, প্রয়োজন ও অধিকারের মধ্যেও থাকবে।


লেখকঃ দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।