ইউক্রেনের ড্রোন-কৌশলে চাপে রাশিয়া

রোবট যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: 

ইউক্রেনের ড্রোন-কৌশলে চাপে রাশিয়া
২৯ মে, ২০২৬ ১৬:৪১  

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে দ্রুত বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন। মানবসেনার বদলে এখন ক্রমেই বাড়ছে চালকবিহীন রোবট, ড্রোন ও দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধযানের ব্যবহার। বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী এমন সব রোবটিক হামলা পরিচালনা করছে, যা রাশিয়ার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইউক্রেন এখন শুধু আকাশপথে ড্রোন হামলাতেই সীমাবদ্ধ নেই; স্থলযুদ্ধেও ব্যবহার করছে বিস্ফোরক বহনকারী রোবট। আভদিভকা ও বাখমুতের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে এখন অনেক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে মাটির নিচের বাঙ্কার থেকে, যেখানে সেনারা লাইভস্ট্রিমে ড্রোনের ভিডিও দেখে দূরনিয়ন্ত্রিত হামলা চালাচ্ছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি দাবি করেন, শুধুমাত্র রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো একটি রুশ ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২২ হাজারের বেশি মিশন পরিচালনার কথাও জানান তিনি।

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত এসব রোবটের মধ্যে রয়েছে চার চাকার বিস্ফোরকবাহী যান, যেগুলো খুব কম শব্দে শত্রুপক্ষের অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। ইউক্রেনীয় সেনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ সেনারা এসব রোবটকে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ নামে ডাকছে।

ইউক্রেনের তৃতীয় অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ‘এনসি-১৩’ ইউনিটের হিসাব অনুযায়ী, ১৬৪টি রোবটিক হামলার সমপরিমাণ অপারেশন পরিচালনায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ সেনার প্রয়োজন হতো। এতে বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই জায়গায় চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনার জীবন রক্ষা করতে পেরেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের মতে, যুদ্ধ এখন আগের মতো ‘মানবিক সাহসিকতার’ লড়াই নয়; বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণ করছে জয়-পরাজয়। একসময় নগরযুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান যুদ্ধ অনেক বেশি নির্ভরশীল সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও জনবল সংকট ইউক্রেনকে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা সহায়তার অনিশ্চয়তাও দেশটিকে কম খরচে কার্যকর যুদ্ধপদ্ধতি খুঁজতে বাধ্য করেছে।

বর্তমানে শুধু হামলাই নয়, গোলাবারুদ সরবরাহ, আহত সেনা উদ্ধার এবং খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে রোবট। রুশ ড্রোনের নজরদারির কারণে ফ্রন্টলাইনে সরাসরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় এসব প্রযুক্তি এখন ইউক্রেনের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত ভবিষ্যতের যুদ্ধের একটি নতুন মডেল তৈরি করছে, যেখানে মানবসেনার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও রোবটিক সিস্টেম হবে প্রধান শক্তি।

/ডিবিটেক/এসআই/ইকে/