ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬ সমাপনীতে মন্ত্রী 

স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি

স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১১  
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:১০  
নানা ‍উদ্ভাবনী প্রজেক্টের স্টল, প্রদর্শনী, আজীবন সদস্যদের সম্মাননা প্রদান ও ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন ও মেজবান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে  তিন দিনব্যাপী ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৫। মেলায় যেখানে ফাইবার অপটিক, ক্লাউড, আইওটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা হয়। নজর কাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোবটিকস, আইওটি ইত্যাদি ভিত্তিক ২৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প। 
১৫ এপ্রিল, বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এ্ মেলা সমাপনী অনুষ্ঠান।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের  মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।  
সমাপনী বক্তব্যে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ব্রডব্যান্ড এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ই-গভর্নেন্স ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য। স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি।
এ ধরণের এক্সপো দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ অভিহিত করেন মন্ত্রী। 
ফকির মাহবুব আনাম জানান, সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া, ব্রডব্যান্ড সাশ্রয়ী করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদার করে দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি’র ওপর গুরুত্বারোপ করে আইসিটি সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, “সরকারের বর্তমান তিনটি প্রধান লক্ষ্য—কানেক্টিভিটি, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পাবলিক সেক্টরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল ভিত্তিই হলো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ। এই কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইএসপি উদ্যোক্তারা আমাদের ফোকাল পয়েন্ট।

একটি নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের আইসিটি খাতকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, সরকার বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো- কানেক্টিভিটি, ওয়ান সিটিজেন ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও ডিজিটাল ওয়ালেট এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এনাবল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম শহরের ওভারহেড ক্যাবল (ঝুলন্ত তার) অপসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার টেকসই বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ‘বিভাগীয় আইএসপি লেয়ার অটুট রাখা’র পাশাপাশি আইএসপিকে ‘আইটি এনাবলড সার্ভিস’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম। 

সামাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং  বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ এমদাদ উল বারীও উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, আইএসপি উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তরুণ উদ্ভাবক এবং দেশি-বিদেশি অতিথিরা।

 সমাপনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঞাঁ।

গত ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬- এর আয়োজক ছিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই এক্সপো চলে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ব্রডব্যান্ড এক্সপোর এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার। মেলায় ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টলে ইন্টারনেট সেবা সম্পর্কিত সেবা, সলিশন্স প্রদর্শীত হয়।

ডিবিটেক/এমজেডইউ/ইকে