জলবায়ু পরিবর্তনে অনেকই ঠিকানা হারাবে; জিপিও হবে পোস্টাল মিউজিয়াম
থিমেটিক র্যালি, ডাক টিকিট প্রকাশ, আলোচনা সভা এবং প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্বডাক দিবসের ‘দুই দিনব্যাপী’ জাতীয় অনুষ্ঠান। রাজধানীরআগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ১০ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান।
সমাপনীতে ৫৪তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতা তিন বিজয়ীসহ ডাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী ও শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
ডাক বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেনো নিজেদের ঠিকানা হারিয়ে না যায়, সেজন্য ঠিকানাগুলো সংরক্ষণ করতে পরিবেশ ঠিক রাখতে তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আর দেশের এরিয়া কোড, স্ট্রিট কোড এবং হাউজ কোড গুলো সমন্বিত করে ঠিকানাগুলোর সাথে জিও ফেন্সিং করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম শাহাবুদ্দিন এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ও মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থার প্রধান, বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জলবায়ু পরিবর্তনে অনেকই ঠিকানা হারাবে : রেজওয়ানা
প্রধান অতিধির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি পাওয়া গিয়েছিল, তখন অনেকে ভেবেছিল এরপর হয়তো কাউকে এমন ডায়েরি লিখতে হবে না। কিন্তু এখন হয়তো প্যালেস্টাইনে এমন ডায়েরি লিখছে। সেটা হয়তো অনেক দিন পর আবার আমাদের সামনে আসবে। এই যে নিজের মনের কথা লিখে রাখার সৃজনশীল বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আমি এখন মন্ত্রণালয়ের ফাইলে লিখি। সারাক্ষণ কম্পিউটারে টাইপ টাইপ করতে লেখার ধরন নিজেও বুঝতে পারি না। আগে যখন আমরা চিঠি লিখতাম তখন হাতের লেখাও সুন্দরের বিষয়টাও ছিল। এখন যন্ত্রের যুগে হাতের লেখা কতটা সুন্দর ত মোটেও প্রাসঙ্গিক নয়। কমিনিউকেশনে ইজ ইম্পোর্ট্যান্ট। দ্রুত কমিনিউকেশনে যেমন জরুরি, তেমনি সঠিক তথ্যের কমিনিউকেশন জরুরি।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ঠিকানা আপডেট না। জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতায় যদি আমরা পড়ি, তাহলে উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ জেলা সমুদ্রের পানির নিচে চলে যাবে। তখন অনেক মানুষের ঠিকানা হারিয়ে যাবে। এই ঠিকানাগুলো সংরক্ষণ করতে আমাদের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। এ ঠিকানাগুলো আমাদের ইতিহাস ঠিক রাখার জন্য জরুরি।
জিপিও হবে পোস্টাল মিউজিয়াম : ফয়েজ তৈয়্যব
অনুষ্ঠানে রাজধানীর শুন্য রেখায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জিপিও-কে সংরক্ষণের বিষয় সহ ডাকের কর্মচারীদের উন্নয়ন ও বেতন ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুইটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ডাক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নানা বৈষম্য দূরীকরার কাজ চলছে। পাশাপাশি বর্তমান জিপিও'র জায়গায় সচিবালয় সম্প্রসারণের বিষয়ে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে যে সংশয় ছিলো তা দূর হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জিপিও'র জায়গায় সমষ্টিগত স্মৃতি সংরক্ষণ এর জন্য পোস্টাল মিউজিয়াম করা হবে।
প্রধান অতিথির ঠিকানা হারানো প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী আরও বলেন, এড্রেস ম্যানেজমেন্ট ( ঠিকানা ব্যবস্থাপনা) এর বর্তমান স্ট্রাকচার ডিজিটাল ইকোনমিক জন্য উপযোগী নয় তাই বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে এড্রেস ম্যানেজমেন্টকে ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে। যেখানে এরিয়া কোড, স্ট্রিট কোড এবং হাউজ কোড গুলো সমন্বিত করা হবে এবং একই সাথে এড্রেসের সাথে জিও ফেন্সিং করা হবে। যেহেতু ঠিকানা ব্যবস্থাপনার সাথে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। সেজন্য বিষয়টাকে ডাক এবং কুরিয়ার আইন হালনাগাদের মাধ্যমে এড্রেস করার কাজ চলছে।
বিশেষ সহকারী আরও বলেন, মেইল এবং পার্সেল ট্রাকিং সিস্টেম এর আওতায় বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ট্র্যাকিং করা যায়। এই ট্রাকিং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এর মান উন্নয়নের মাধ্যমে ত্রুটিহীন করে ট্রাকিং প্রায় শতভাগে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।
বক্তব্যে ই-কমার্সের সাথে ডাক বিভাগকে সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এর মাধ্যমে শহর এবং গ্রামের মানুষের বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
সমপনীতে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের এবং ডাক বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মচারীকে পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কৃত হলেন যারা
২০২৫ সালে ডাকের শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মচারী হিসেবে ডাক অধিদপ্তরের মেশিনিস্ট মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং অফিস সহায়দ কাজী আব্দুল বাশার এবং গাড়িচারক হিসেবে মো: আলমগীর কবির পুরস্কৃত হয়েছেন। এছাড়াও জুনিয়র হিসাব রক্ষক ঢাকার নাজনীন শফি ও গাজীপুরের মিঠুন চন্দ্র দাস, রাজশাহীর স্টোর কিপার শামীম কাওসার শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মচারী হয়েছেন। দিনাজপুরের অবিভাগীয় এজেন্ট মোছা রওশন আরা, রংপুরের পোস্টাল অপারেটর সাজেদুল ইসলাম ও উচ্চমান সহকারী কৃষ্ণ গোপাল সরকার, ঢাকার উপজেলা পোস্ট মাস্টার ইব্রাহিম খলিল ও উচ্চমান সহকারী আব্দুল গাফফার শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মচারী নির্বাচিত হয়েছেন।
ডাকের ঢাকা মেট্রোপলিটন সার্কেলের উচ্চমান সহকারী সোহেল আহমেদ সরদার, পোস্টাল অপারেটর কামরুন্নাহার সুলতানা, গাড়ি চালক আব্দুর রাজ্জাক, ইলেক্ট্রিশিয়ান কাজী গোলাম সরোয়ার, পোস্টম্যান ইমতিয়াজ উদ্দিন ভূইয়া, মেইল অপারেটর আব্দুর রহিম মিয়া, মেইল ক্যারিয়ার মো: আবু তাহের, ইডিএ খালেদা ইয়াসমিন ও ইডিডিএ নূরনবী এ বছরের শ্রেষ্ঠ কর্মচারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।
এছাড়াও ৫৪তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নুর, শহীদ বীর উদ্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মাহা ইসলাম এবং সিলেটের আনন্দ নিকেতনের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শুচিস্মিতা রায় রাইকা পুরস্কার লাভ করেন।
আরো পুরস্কৃত হলেন যারা : চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের উচ্চমান সহকারী রুমানা বেগম, সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার আব্দুস ছাত্তার, চট্টগ্রাম বৈদেশিক ডাকের পোস্টাল অপারেটর মো. আব্দুল হান্নান, বান্দরবনের গাড়ি চালক আশীষ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জিপিও’র মেইল মোটর সুপারভাইজার রাহুল বড়ুয়া, পোস্টম্যান শফিকুল আলম খান, কুমিল্লার রানার মো: শাহজাহান, ইডিএ লায়লা নুর আক্তার, সিলেটের ইডিডিএ হোসনেয়ারা বেগম এবং বান্দরবনের ইডিএমসি নুরুচ্ছফা বেগম।







