দুর্যোগে হ্যাজার্ড ম্যাপিং; ১০দিনে ৩১১টি ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপন
স্মার্ট গভর্ন্যান্স ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানা প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জনসেবা আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে নানামুখী ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি ১ লক্ষ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি ডিজিটাল খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
১৫ এপ্রিল, বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ডা. জাহেদ বলেন, সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে সহায়তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করছে।ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, হ্যাজার্ড ম্যাপিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এবং বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
এভাবেই সমন্বিত ডিজিটাল কার্যক্রম প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন এই উপদেষ্টা।
উদ্যোগগুলোর পরিসংখ্যান টেনে তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ইতিমধ্যে ঢাকা ও কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনসহ কক্সবাজার, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতেও এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, চলন্ত ট্রেনে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরীক্ষামূলকভাবে 'স্টারলিংক' সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। হাওর-বাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিতদের ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই প্রকল্পের অধীনে ১০দিনে ৩১১টি ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপন এবং ৩৫৬ কি, মি. অপটিক্যাল ফাইবার মোবাইল অপারেটরদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ডাক বিভাগ তাদের মেইল ব্যবস্থাপনায় 'ট্র্যাক এন্ড ট্রেসিং' ব্যবস্থা এবং ই-কমার্স পণ্য সরবরাহে ১৪টি 'ফুলফিলমেন্ট সেন্টার' চালুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কিউআর কোড ভিত্তিক 'ফুয়েল পাস' অ্যাপ চালু করেছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চালক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।গত ১২ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট সাতটি পাম্পে এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
১৪ এপ্রিল চালু হওয়া কৃষিকার্ড প্রকল্পের বরাতে ডা. জাহেদ উর রহমান জানালেন, প্রান্তিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সুবিধা পৌঁছে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ১৫টি উপজেলার প্রায় ৮ লক্ষ কৃষকের জন্য ১৩০টি তথ্য সংবলিত একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করছে এবং পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি বার্ষিক ২,৫০০ টাকা প্রণোদনা এবং সহজে কৃষি ঋণ সুবিধা পাবেন। ]একইভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩৭,৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা দিচ্ছে।
এছাড়া ভূমি সেবার জন্য '১৬১২২' নম্বরটি ২৪/৭ চালু রাখা এবং নৌযানগুলোর জন্য ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন চালুর সিদ্ধান্ত নাগরিক সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজতর করেছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এই ছোঁয়া লেগেছে বিচার বিভাগেও। সদ্য পাস হওয়া 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২৬'-এ ডিজিটাল প্রমাণ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ১১৪টি হ্যাচারির ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং ৩০০টি মৎস্য খাদ্য কারখানায় নিয়মিত ডিজিটাল মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী।
ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে



