৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না হলে চিকিৎসকদের দেশব্যাপী কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি। হামলার ঘটনায় ঘোষিত চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
১১ এপ্রিল, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চারটি দাবি উত্থাপন করেন। সরকারের কাছে তাদের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে নাম-পরিচয় প্রকাশসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাশেম বলেন, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ধারী কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় এবং ‘মব’ তৈরি করে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির উদ্যোগে ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মবিরতি শেষে শনিবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ শেষে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির চার দফা দাবির অধিকাংশই তাদের সুপারিশমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, একই দিনে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সারাদেশে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী সব ইন্টার্ন চিকিৎসক আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চার দফা দাবির অধিকাংশের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে এখন মূল দাবি হলো, ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডিবিটেক/এমটিও/ইকে







