বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো নিজস্ব এডিস লার্ভা জরিপ শুরু ডিএসসিসির
রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। জরিপে আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূচক ব্যবহার করে রাজধানীর সম্ভাব্য ডেঙ্গু হটস্পট শনাক্ত করা হবে।
১০ মে, রবিবার,সকালে নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মোঃ আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এ জরিপ ১২ দিনব্যাপী চলবে।
জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কবো টুলবক্স’ (KoboToolbox)।
জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কন্টেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) এর মাধ্যমে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি এবং কোথায় ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। ফলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য হটস্পট চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “ডেঙ্গু এখন জনজীবনের জন্য বড় হুমকি। নাগরিকদের এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা প্রথম নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই জরিপ পরিচালনা করছি। রোগের উৎপত্তিস্থল বা সোর্স সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা সম্ভব হবে।”
মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “এটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। কোনো এলাকায় না গিয়ে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়া হবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলার শামিল। অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
উদ্বোধনের পর প্রশাসক ফুলবাড়িয়া মোড়স্থ কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালে জরিপ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জমে থাকা পানি, বর্জ্য এবং মশার লার্ভা পাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জরিপ চলাকালে যেসব স্থানে লার্ভা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমও চালানো হবে।
ডিবিটেক/আরআরএস/এমইউএম



