প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে
শিক্ষার ‘মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল’ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে এটুআই
দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিংসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক কোর্স এবং ‘মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল’ ফ্রেমওয়ার্ক প্রবর্তন করা হচ্ছে।
৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্তকরণ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানান, অনার্স প্রথম বর্ষে ইতোমধ্যে আইসিটি ও ইংরেজি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত আইসিটি কারিকুলাম এবং একটি মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের কাজ চলছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বল্পমেয়াদি ও কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদ অর্জনের সুযোগ পাবে। এছাড়া আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) এবং ব্লেন্ডেড লার্নিং কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক শিক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মোহাঃ আব্দুর রফিক বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক, প্রাসঙ্গিক এবং শ্রমবাজার-উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিখাতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এসব প্রযুক্তির প্রয়োগ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের দক্ষতা শিক্ষার্থী ও জনগণকে নতুন বিশ্বের বাস্তবতায় নিজেদের এবং দেশের স্বার্থে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই যুগোপযোগী উদ্যোগ দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যোগ্য করে তুলবে।
ডিবিটেক/আরআই/ইকে







