ঢাকার দুই পাম্পে পরীক্ষামূলক 

অ্যাপে তেল বিক্রি চালু

অ্যাপে তেল বিক্রি চালু
৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:২৫  
৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২০  

রাজধানী ঢাকার দুইটি পেট্রোল পাম্পে শৃঙ্খলা আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু করেছে সরকার। এর একটি রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং অন্যটি তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন।

৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি- একটি আসাদগেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। এরই মধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে প্রথমে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও ধীরে ধীরে ঢাকা শহরের সব পেট্রোল পাম্পকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরবর্তীতে এই ডিজিটাল পদ্ধতি দেশব্যাপী চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী। 

যুগ্ম সচিব বলেন, তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। আমরা মোটরসাইকেলকে ফোকাস করে দুটি ফিলিং স্টেশনে এই কাজ শুরু করেছি। আশা করি ধীরে ধীরে ঢাকা শহর পুরোটা কাভার করতে পারব। এরপর হয়তো আমরা এটি দেশব্যাপী শুরু করার চেষ্টা করব।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা চালু হলে পাম্পে ভিড়, অনিয়ম এবং অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার মতো সমস্যা কমে আসবে, পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি বিতরণব্যবস্থায় মনুষ্যচালিত প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আবার একই ব্যক্তি একাধিকবার এসে সারিতে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন, যা জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল ব্যবস্থা জ্বালানির বিতরণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করবে, তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় নিয়ে আসবে। এই অ্যাপের বিআরটিএ কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।

গ্রাহকদের কারও স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন এবং কিউআর কোডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন বলেও জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বলা হয়েছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা ডিজিটাল মাধ্যমে এন্ট্রি করার পরই গ্রাহকদের জ্বালানি তেল বিতরণ করতে পারবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন গ্রাহক জ্বালানি নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে তাঁর জন্য পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের পরিমাণ দেখতে পারবেন।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অনিয়ম ও অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

ডিবিটেক/ডিটিও/ইকে