দুই দশক আগে ঢাকায় বিল গেটস-খালেদা জিয়ার বৈঠক

দুই দশক আগে ঢাকায় বিল গেটস-খালেদা জিয়ার বৈঠক
ছবি: ইন্টারনেট
৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:২৩  

আজ থেকে ঠিক ‍দুই দশক আগে ২০০৫ সালের ৫ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকা সফরে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন বিশ্বের শীর্ষ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও প্রধান সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট বিল গেটস। সেই বৈঠকে সফটওয়্যার পাইরেসি রোধে স্বল্পমূল্যে সফটওয়্যার সরবরাহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। 

বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে সঙ্কটাপণ্য এই নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ‘পার্টনারস-ইন-লার্নিং’ সমঝোতা চুক্তি সই করেছিলেন।  বৈঠকে গেটস বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়াকে জানিয়েছিলেন, দেশের সার্বিক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনুকূল পরিস্থিতি তাকে মুগ্ধ করেছে।

তিনি চট্টগ্রামে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন, গেটস ফাউন্ডেশন এ প্রকল্পে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে। বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রী ড. মঈন খান, বিএনপির সিনিয়র যৌথ মহাসচিব তারেক রহমান সহ অন্যান্য মন্ত্রীরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রী মঈন খান এবং বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টের নির্বাহী চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের আইটি খাতে মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।

চুক্তি সই শেষে সেদিন সংবাদ সম্মেলন ও সুধী সমাবেশে বিল গেটস জানিয়েছিলেন, তাদের পরবর্তী অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ভিস্তা ও অফিস-১২ সফটওয়্যারে বাংলাদেশের বাংলা যোগ হচ্ছে। স্থানীয় উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের কথা বিবেচনায় বাংলা ইউনিকোড অপারেটিং সিস্টেম চালুর আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছিলেন, যে এটি ভারতের বাংলা সংস্করণের সঙ্গে কোনো বিরোধ তৈরি করবে না।

বিমান বন্দর থেকে বিল গেটসে-কে অভ্যর্থনা দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তার প্রায় ১২ ঘণ্টার ঢাকা সফর শেষে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তখন নতুন উৎসাহের সৃষ্টি করেছিল। পরের বছরেই উইন্ডোজে শুরু হয় বাংলা লেখার সুযোগ। 

বাংলাদেশে প্রথম সেই সফরে নারী শিক্ষার প্রসারে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সহযোগিতার অঙ্গীকারের পাশাপাশি গেটস আইসিডিডিআর,বি ও ব্র্যাকের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখে ছিলেন বিল গেটস। 

সফরকালে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ’ শীর্ষক উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের বিরুদ্ধে সস্তা সফটওয়্যার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আইটি শিল্প নেতাদের প্রশ্নের জবাবেও তিনি এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

বিল গেটস তখন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মতো উদীয়মান বাজারে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এবং সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশে এই অগ্রগতি দেখে আমি আনন্দিত।’

বাংলাদেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক তখন বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুসারে ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ১০ হাজার শিক্ষক ও ২ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

২০০৪ সালে ঢাকায় মাইক্রোসফট বাংলাদেশ অফিস চালু হয়েছিল।

ডিবিটেক/আইএইচ