সরকারি ফোনে নিজস্ব অ্যাপ বাধ্যতামূলক করছে হোয়াইট হাউস

সরকারি ফোনে নিজস্ব অ্যাপ বাধ্যতামূলক করছে হোয়াইট হাউস
২৫ মে, ২০২৬ ০৯:১০  

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে বাধ্যতামূলকভাবে অফিশিয়াল ‘হোয়াইট হাউস অ্যাপ’ ইনস্টল করার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ইমেইল এবং নথিপত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশটির নির্বাহী বিভাগের সব সংস্থায় সরকারিভাবে দেওয়া আইফোন ও আইপ্যাডে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড ও ইনস্টল করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কোনো কোনো প্রযুক্তি বিশ্লেষক রসাত্মকভাবে বলছেন- অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্যই হয়তো প্রশাসন এই অভিনব ও জবরদস্তিমূলক পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

অ্যাপের ভেতরেই ‘প্রেসিডেন্টকে টেক্সট’ করার সুবিধা
চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এই অফিশিয়াল অ্যাপটি প্রথম বাজারে নিয়ে আসে। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, হোয়াইট হাউসের যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত, লাইভস্ট্রিম, প্রেস রিলিজ এবং ব্রেকিং নিউজ সরাসরি ও কোনো রকম সেন্সরশিপ ছাড়া জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এই অ্যাপ ভূমিকা রাখবে।

তবে অ্যাপটির ভেতরে থাকা একটি বিশেষ বাটন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে—‘টেক্সট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে, এই বাটনে ক্লিক করামাত্রই মোবাইলের মেসেজ বক্সে “গ্রেটেস্ট প্রেসিডেন্ট এভার!” লেখা একটি প্রি-ফরম্যাটেড বা আগে থেকে তৈরি বার্তা চলে আসে। ব্যবহারকারী সেটি নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণামূলক অ্যালার্টের তালিকায় নিবন্ধিত হয়ে যান।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো আলাদা কর্মমুখী ফিচার এই অ্যাপে থাকছে না, বরং সাধারণ জনগণ প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে যে অ্যাপটি পাচ্ছেন, হুবহু সেটিই সরকারি ফোনে পুশ করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস অবশ্য এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, “সরকারি ডিভাইসে সাধারণত এমন কিছু অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজে ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।”

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সাইবার নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি
হোয়াইট হাউসের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে যে, আইটি বিভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটি সবার ফোনে ইনস্টল করে দেবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রথমত, সরকারি চাকুরিজীবীদের সবসময় রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার নিয়ম রয়েছে। সেখানে অ্যাপের ভেতরে থাকা রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী প্রচারণামূলক কনটেন্ট কর্মীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ধরনের আইনি ও নৈতিক চাপ তৈরি করবে।

দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে বড় বিপত্তির জায়গা হলো এর দুর্বল কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তা। মার্চ মাসে অ্যাপটি বাজারে আসার পরপরই এক স্বাধীন নিরাপত্তা গবেষক এটি ডিকম্পাইল করে দেখেন যে, অ্যাপটিতে চরম নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রতি কয়েক মিনিট পর পর ব্যবহারকারীর নিখুঁত জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে থার্ড-পার্টি সার্ভারে পাঠায়। এছাড়া অ্যাপের ভেতরে থাকা ইউটিউব প্লেয়ারের স্ক্রিপ্টটি গিটহাবের একটি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ও সাধারণ অ্যাকাউন্ট থেকে লোড করা হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে হ্যাক করে হ্যাকাররা পুরো অ্যাপ ও সরকারি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

আইটি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যেখানে সরকারি সংস্থাগুলোর ডেটা সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কঠোর ‘মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট’ (এমডিএম) প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়, সেখানে এমন একটি দুর্বল ও রাজনৈতিক অ্যাপ বাধ্যতামূলকভাবে পুশ করা সরকারি নেটওয়ার্কের ভেতরে হ্যাকারদের জন্য ‘ব্যাকডোর’ বা গোপন প্রবেশপথ তৈরি করে দিতে পারে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: এনগ্যাজেট