জামায়াত আমির ও ঢাবি ভিপি
সুমির সঙ্গে ‘নিকৃষ্ট আচরণ’ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা
ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে (৩৭) গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে তার সঙ্গে ‘নিকৃষ্ট আচরণ’ হয়েছে উল্লেখ করে এই ঘটনাকে নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ‘‘জামায়াতকর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা সব যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়।’’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’’
এর আগে জামায়াতের এই নারী কর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।
একই ঘটনায় সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা প্রকাশ করে এক স্ট্যাটাসে এই গ্রেফতারকে ‘পুরানো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের অনুকরণ’ বলে অভিহিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
সাদিক কায়েম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভোলার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরানো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নেরই অনুকরণ। তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে এভাবে বিনা অপরাধে নিজ বাসা থেকে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া কেবল অমানবিক নয়, বরং ভিন্নমত দমনে নবগঠিত সরকারের সুপ্ত মনোবাসনারই বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘যারা একসময় নিজেরাই ফ্যাসিবাদের শিকার ছিলেন, তাদের শাসনামলে এমন অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জামায়াতকর্মী বিবি সাওদার মুক্তি ও সকল প্রকার প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারের মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার দাপটে নিপীড়ন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই শুভ হয় না।’
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে জ্বালানি তেল সংকট ও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার অভিযোগে ৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ওই নারীর তিন বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়টি সামনে আসায় সাধারণ মানুষ একে অমানবিক হিসেবে দেখছেন।
ডিবিটেক/এসএম/ইকে







