ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস করে তিথির হুঁশিয়ারি
অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর আলভীর 'প্রেমিকা' হিসেবে আলোচনায় আসা ইফফাত আরা তিথি এবার মুখ খুলেছেন। ইকরা-আলভীর সংসার ভাঙা ও ইকরার আত্মহত্যার জন্য তিথি দায়ী- এমন অভিযোগ উঠলে এর কড়া জবাবে অভিনেত্রী বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টে ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪৪টি স্ক্রিনশট ৪ মার্চ, বুধবার বিকেলে প্রকাশ করেন তিথি। ফেসবুকে শেয়ার করা এসব স্ক্রিনশটের ক্যাপশনে বেশ কিছু অভিযোগের উত্তর দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘ভেবেছিলাম এইগুলা পাবলিকলি দিব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিব সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারেস করা হচ্ছে। আর চুপ থাকা গেল না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কী, সেটার আমলনামাও আছে। শুধু আমার কাছে না। অনেকের কাছেই আছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলেও যেন সেটা সামনে আসে।’
তিনি লিখেছেন, “না জেনে-বুঝে কথা না বলে, এতই যেহেতু সময় সবার তাহলে সবটা পড়েন। ইকরার সাথে আমার কিছু ক্যাজুয়াল কথা! এইতো কিছুদিন আগের। এইগুলা আপাতত দিলাম। কিছু বিষয় ক্লিয়ার করার জন্য। আরও আছে। আর ফেক বলার অপশন নাই, কারণ কনভার্সেশন তো এখনো আছে। একটা স্ক্রিন রেকর্ডে ভয়েসও আছে। পাবলিক যা-তা বললেও যারা ইকরার কণ্ঠ চেনে তারা তো বোঝারই কথা।”
“আমার বিশ্বাস, অ্যাক্টর ইকুইটি (অভিনয়শিল্পী সংঘ), অথবা আরও সংগঠন যা আছে, তারা সেগুলো হাতে পেলে সুষ্ঠু বিচার করবে। আর যদি আমাকে মেরে ফেলে, হ্যারেজ করে। অনেক মানুষ আছে সেগুলো পাবলিকের সামনে আনার। চাই নাই আপনার সাথের মেয়েগুলোর ঝামেলা করতে! কি আর করার! নিরুপায় আমি। প্রয়োজন হলে সেই আমলনামাও আসবে সামনে।” যোগ করেন তিথি।
দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’। ইকরার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল বলে আগেই পরিষ্কার করেছেন। পোস্টে ‘ইকরার সঙ্গে ছিল স্বাভাবিক যোগাযোগ’ দাবি করে তিথি জানান, ইকরার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত ও স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশনের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা কখনোই ছিল না।’ বরং তিনি ইকরাকে কাজের মধ্যে সক্রিয় থাকতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন।
আলভীর স্ত্রী আমেরিকায় চলে যেতে চেয়েছিল। সেই ইচ্ছার কথাও তিথির সঙ্গে ভাগ করেছিল ইকরা। তা জেনে ইকরাকে তিথি বলেছিল, “বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না। কারণ তুমি তাকে ভালোবাস। তুমি রাণি, তুমি তার রাণি।”
এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিথি বলেন, “তাহলে আত্মহত্যার জন্য উসকানি আমি কেমন করে দিব? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে, ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে।”
আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ইকরার সমালোচনা করে তিথি বলেন, “সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকত। মা হওয়ার পর এইটাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। ওর জীবনের মায়া, সন্তানের মায়া থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ওর কষ্ট বা ভোগান্তিকে ছোট করছি না, কোনোদিন করবও না। কিন্তু ও যে মা এমন একটা ডিসিশনের আগে যদি একটু ভাবত!”
তিথির পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা লিখেছিলেন। এ বিষয়ে তিথি লিখেন, ‘একটা মেয়ে যত যা–ই হোক নিজের বাবা–মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি ওনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিলো। ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। স্পষ্ট লিখেছে যে ২০১৮ সালে একবার ও আলাদা হয়ে গিয়েছিলো এবং ওর বাবাকে বলেছিলো যে ওকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু ওনারা সাপোর্ট করে নাই। সেই থেকে ওর মনে একটা ক্ষোভ তাদের নিয়ে, যা থেকে এরপর আর কোনো দিন সে মুখ ফুটে কিছু বলে নাই।’
পোস্টে তিথি আরও লেখেন, যদি তার কিছু হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। দীর্ঘ পোস্টের শেষে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিথি। তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এত দোয়া করুক, যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।’
ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউএম







