বিসিএস: ৭ পদে প্রার্থী ৮

১ প্রার্থীর জন্য কি ব্যালটে গড়াবে ভোট?

১ প্রার্থীর জন্য কি ব্যালটে গড়াবে ভোট?
২৮ মে, ২০২৫ ০০:৩৩  
২৮ মে, ২০২৫ ০৭:৫৮  

রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দেশের প্রথম প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস)  ২০২৫-২৭ মেয়াদের দ্বিবার্ষিককার্যনির্বাহী পরিষদের (ইসি) নির্বাচন। সাত সদস্যের এই নির্বাচনে এরই মধ্যে জমা পড়েছে মাত্র ৮টি আবেদন। 

প্রার্থীরা হলেন- স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম, কম্পিউটার সিটি টেকনোলজিস লিঃ এর মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম, ওয়েলকিন কম্পিউটারের স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ নজরুল ইসলাম হাজারী, ল্যান্ড মার্ক কম্পিউটার্স এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম দীপু, জাজি সত্ত্বাধিকারী মোঃ ইকবাল হোসাইন, এইচ এম কম্পিউটার্স সত্ত্বাধিকারী  আবুল হাসান, পিজি গার্ডেন সত্ত্বাধিকারী মোঃ আহসানুল ইসলাম এবং নিউ ইউনিভার্সেল কম্পিউটার্স এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ আনিসুর রহমান। 

প্রার্থী আবেদন প্রতি ৮০ হাজার টাকা করে প্রার্থী আবেদন বিক্রি করে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেছে বিসিএস নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট অনুষ্ঠানে এই আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভোট ব্যালট পর্যন্ত গড়াবে কি না তা নির্ধারিত হবে আগামী ৩১ মে বিকেল ৫টার মধ্যে। কেননা, আগামী ২৯ তারিখ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার সুযোগ রয়েছে। অবশ্য তার আগেও ২৮ মে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের দিনে যদি এই ৮ জনে মধ্যে কোনো একজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয় হবে ১ জুন  চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বদলে পরবর্তী বিসিএস নেতাদের নাম জেনে যাবে সাধারণ সদস্যরা।  এমনটা হলে বিসিএস এর ৩ হাজার ৯১ সদস্যের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫৩০ জন ভোটারের ব্যালটে সিল মারার আনুষ্ঠানিকতার দরকার নাও লাগতে পারে। 

 বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের উপসচিব (এফটিএ-১ শাখা, এফটিএ অনুবিভাগ) শরীফ রায়হান কবিরকে চেয়ারম্যান করে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের উপসচিব (অবা-১ শাখা, আইআইটি অনুবিভাগ) সন্দীপ কুমার সরকার এবং  মো. সিরাজুল ইসলাম সহকারি বাণিজ্য পরামর্শককে (উপনিয়ন্ত্রক, এফট্এ অনুবিভাগ) দিয়ে গঠিত হয়েছে বিসিএস নির্বাচন বোর্ড। 

এই বোর্ডের চুল চেরা বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করছে বুধবার কোন দিকে গড়াবে বিসিএস কার্যনির্বাহী কমিটির ভোট গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা। একজন প্রার্থীর জন্য ভোটের আনুষ্ঠানিকতা হবে না কি, প্রতিযোগিতাহীনতার পথ এড়িয়ে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে খরচ বাঁচবে সংগঠনের। সময়েই এর সঠিক জবাব দেবে। 

প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় বিসিএস কার্যনির্বাহী পরিষদের পদত্যাগ এবং জরুরি তলবি সভার মাধ্যমে আহবায়ক কমিটি গঠন করেও শেষ তক নানা বিতর্কের মধ্যে গত বঝরের ২৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে পরিবর্তীত সময়ে সংগঠনকে ধরে রাখতে গত বছর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিসিএস’র ৩৫০ জন্য সদস্যের স্বাক্ষরিত লিখিত চিঠির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘জরুরি তলবি সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সবার সম্মতিক্রমে বিসিএস’র আহবায়ক এর দায়িত্ব দেয়া হয় বিসিএস’র ২০২২-২৪ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের (ইসি) সাবেক পরিচালক ও স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে। সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন বিসিএস’র সাবেক সভাপতি ড. মো. সবুর খান। তবে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধমিালা, ১৯৯৪ এবং সংগঠনটির সংঘবিধি ও সংঘস্মারক অনুযায়ি আহবায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা না থাকায় শেষতক বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নাহিদ আফরোজকে বিসিএস এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনিই নির্বাচন কমিশন গঠন করে ভোটের কার্যক্রম শুরু করেন।

তবে দেশজুড়ে বিস্তৃত বিসিএস ১১টি বিসিএস শাখা কমিটির কেউ পদত্যাগ না করায় মেয়াদোত্তীর্ণ সময়সীমা মেনে শাখা কমিটিগুলোর নির্বাচন আগামী বছরের ২৬ মে।