ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব 

স্টারলিংক নতুন একটা উদ্যোক্তা ধারা সৃষ্টি করতে পারে

স্টারলিংক নতুন একটা উদ্যোক্তা ধারা সৃষ্টি করতে পারে
২০ মে, ২০২৫ ২০:৫০  
২১ মে, ২০২৫ ০০:৩০  

২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও পরীক্ষামূলক চালু হয় (৫জি) পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। এরপর ২০২৪ সালের ৩০ জুন সে বছরেরই ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দর এবং রাজধানীর চারটি এলাকায় ৫জি চালুর নির্দেশ দেয়া হয়। তবে পরীক্ষার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ৫জি’র দেখা পায়নি দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু কথার ফুলঝুড়ি নয়; এবার বাস্তবেই কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টানেট সেবা চালু করে ইতিহাস রচনা করলো অন্তর্বতীকালীন সরকার। পরীক্ষামূলক চালুর পৌনে দুই মাসের মধ্যে নতুন মাইলফলক রচিত হলো দেশে। দেশে নিরবিচ্ছিন্ন ও সর্বব্যাপী ইন্টারনেটের তৃতীয় উৎস হিসেবে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে সফল মিশন শেষ করলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। 

এতো কম সময়ে লাইসেন্স নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বিদেশী একটি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক-কে দেশে এনে সেবার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের টেলিকম ইতিহাসে এমন ক্ষিপ্র গতি দিখিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করলো ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। কিন্তু এই ইন্টারনেট দেশের মানুষের জন্য কতটা আশীর্বাদ, কতটা ক্রয় ক্ষমতার ভেতর, দেশের ইন্টারনেট ব্যবসায় কী প্রভাব ফেলবে ইত্যাদি বিষয়ে উত্তর দিয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। 

প্রশ্নঃ  স্টারলিংক আসলে কাদের জন্য? এর সেবা গ্রহীতা কারা? 
উত্তরঃ মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন জাযগায এখনো ফাইবার পৌঁছায়নি। মাত্র ৩০% মোবাইল টাওয়ারে ফাইবার আছে। এমতাবস্থায় মোবাইল কোম্পানিগুলোর যে সেবা দান সেটা মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে হয় যেটা লো ক্যাপাসিটি। বাংলাদেশে এখনও হাজার হাজার মোবাইল টাওয়ার আছে যারা শুধুমাত্র ৩০০ এমবিপিএস এর একটা ব্যান্ডউইডথ দিযে একটা মোবাইল টাওয়ার সচল রাখে ডেটা ইন্টারনেটের জন্য এবং সেই ডেটা ইন্টারনেটটা প্রায় হাজার কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয। স্টারলিঙ্কের ক্ষেত্রে মাত্র একটা সেটআপ বক্স দিযে এই সমস্যাটার সমাধান হবে। অর্থাৎ গ্রামের একজন উদ্যোক্তা উনি স্টারলিংকের একটা সেটাপ বক্স যেটার সাইজ ৪৭,000 টাকা এটা কিনে উনি নিজে নিরবচ্ছিন্ন এবং লো লেটেন্সি অর্থাৎ ডাউনলোড করতে তার কম সময খরচ হবে। লো লেটেন্সি এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেটটা ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, সংসদ ভবনে কিংবা মাননীয় উপদেষ্টার বাসভবন বা তার অফিসে যেই স্পিডে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয, ঠিক একই স্পিডে দেশের প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চল যেমন পার্বত্য অঞ্চল, হাওরাঞ্চল কিংবা বনাঞ্চলে যেকোনো গ্রাহক উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ডিজিটাল বৈষম্য রোধে একটা কার্যকর পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।

প্রশ্নঃ  স্টারলিংকের কী ডাটা লিমিট রয়েছে? 
উত্তরঃ না, স্টারলিংকের ডাটার যেমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তেমনি এর গণ্ডিরও কোনো সীমানা নেই। বাংলাদেশে এর মাধ্যমে আনলিমিটেড ডাটা পাওয়া যাবে।

প্রশ্নঃ স্টারলিংকের জন্য সরকারের পক্ষ থেকেতাড়াহুড়াএবংঅতি প্রচারচালানো হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। তাদের জন্য আপনি কি বলবেন?

উত্তরঃ  দেশের বিদ্যমান ইন্টারনেট সেবার মান খুবই খারাপ। অবস্থায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও দ্রুতগতির মানসম্পন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে পারে স্টারলিংক। ইন্টারনেট নিয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হিসেবে স্টারলিংক নিয়ে সরকারের আগ্রহও উচ্ছ্বাস আছে। তাই প্রতিটি কাজই সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার একটা তাড়া আছে। ‘যৌক্তিক কারণে ও জনস্বার্থ রক্ষায়’ আমরা প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করি। স্টারলিংকের মাধ্যমে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (এফডিআই) বার্তা দিতে চেয়েছি যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব পলিসি সংস্কার করতে পারে। স্টারলিংক যেহেতু এই সুবিধা পেয়েছে। এই উদাহরণ আমরা অন্যান্য গ্লোবাল প্লেয়ারদের কাছে উপস্থাপন করতে পারছি। বিনিয়োগকারীদের কাছে গৌরবের সঙ্গে আমরা বিষয়গুরো উপস্থাপন করতে পারছি। সুতরাং আমি মনে করি না এখানে অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি করা হয়েছে।

প্রশ্নঃ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিরা কেন সরকার স্টারলিংকের প্রচার (প্রমোশন) করছে? 
উত্তরঃ এই প্রশ্নের চারটা উত্তর আছে। প্রথমত জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কারণে গ্লোবাল কমিউনিটিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সক্ষমতার চিত্র ভয়াবহরকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য আমরা হাই স্পিড ও হাই কোয়ালিটি ইন্টারনেটের একটা টেকসই বিকল্প খুঁজেছিলাম। সেই থেকে এটা এসেছে।  দ্বিতীয়ত, আমরা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছি, বাংলাদেশ বিনিয়োগফ্রেন্ডলি। স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে এর সিস্টার কনসার্ন হিসেবে আরও বহু কোম্পানি বাংলাদেশে আসবে। ইতোমধ্যে আমরা সেটা দেখতে শুরু করেছি। এনজিএসও অপারেটর হিসেবে অন্তত চারটি কোম্পানি প্রস্তাব করেছে। তৃতীয়ত হচ্ছে, বাংলাদেশে যে ইন্টারনেট, তা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট। এটার একটা মানসম্পন্ন বিকল্প তৈরির দায় আমাদের ছিল। চার নম্বর বিষয়টা হচ্ছে, বাংলাদেশের যে ফ্রিল্যান্সার তারা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হয়। তারা একটা ফরেন কোম্পানির সঙ্গে মিটিং করছে হয়ত, মিটিংয়ের মাঝপথে তাদের ইন্টারনেটের কারণে জুমটা বন্ধ হয়ে যায়। তারা কাস্টমারের টাইমটা মেইনটেইন করতে পারে না। আমরা মনে করি এই চারটা সমস্যার সমাধান করবে স্টারলিংক। প্লাস নতুন জব তৈরি করবে। আমি আগেই বলেছি কো-ওয়ার্কিং স্পেস তৈরি করবে। 

প্রশ্নঃ  স্টারলিংক কি উদ্যোক্তা বান্ধব? উদ্যোক্তারা ইন্টারনেট সেবা প্রদানে কীভাবে স্টারলিংক ব্যবহার করতে পারবেন?

উত্তরঃ আমরা এনজিএসও' বিধিবিধান এমনভাবে করেছি যেনো স্টারলিংক বা সমজাতীয় ইন্টারনেট সুবিধা উদ্যোক্তা বান্ধব হয়। অর্থাৎ, একজন উদ্যোক্তা কিংবা একাধিক উদ্যোক্তা নিজেরা যদি ৪৭,০০০ টাকার একটা তহবিল গঠন করে, এই তহবিলের মাধ্যমে তারা ইন্টারনেট সেটআপ বক্স কিনবে। কেনার মাধ্যমে তারা তাদের আশেপাশের দোকানে এই ইন্টারনেটের বিক্রি/সেবা প্রদান করতে পারবে। ওয়াইফাই রেঞ্জ আনুমানিক, আনুমানিক ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ মিটার, এই ৫০ মিটার জোনের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামের গ্রোথসেন্টারগুলোতে অনেক দোকানপাট থাকে। সেখাবে সহজেই ইন্টারনেট সেবা এক ব্যক্তি কিনে বা একাধিক ব্যক্তি সমিতি আকারে কিনে সেটা মাল্টিপল ব্যবহার সম্ভব। আইনে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়নি। এছাড়া শহরের বাসভবনে ওয়াইফাই শেয়ারিং করে ইন্টারন্টে ব্যবহার সম্ভব। স্টারলিঙ্কে যেহেতু বিল্টইন রাউটার আছে সেহেতু রাউটার হতে রাউটারে আইএসপি সেটাপেও ব্যবহার সম্ভব।  পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব আমাদের মাইক্রোক্রেডিট অথোরিটি কিংবা ফাইন্যান্সিয়াল অর্গানাইজেশন কিংবা ব্যাংকের জন্য, যাতে এই স্টারলিংক উদ্যোক্তাদের এই অর্থের সংস্থান হয। পাশাপাশি যারা নাগরিক সেবার উদ্যোক্তা হবেন, তাদের জন্য স্টারলিংক কিভাবে সহজে নেওযা যায় - এর জন্যও আমরা ফাইন্যান্সিয়াল প্যাকেজ কাজ করার পরিকল্পনা করছি। আমরা বলছি যে, স্টারলিংকের দাম কিছুটা বেশি। মাসিক খরচ ছয় হাজার এবং চার হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে, এটা আমরা স্টারলিংকে কিছুটা নেগোশিয়েশন করে এটা কমিয়েছি। কিন্তু যেহেতু এটা শেয়ার্ড হবে এবং শেয়ার করা যাবে, শেয়ার করার উপর যেহেতু আমরা বিধিনিষেধ রাখিনি এবং বিক্রি করার উপরও বিধিনিষেধ রাখিনি। সেজন্য এই ইন্টারনেট দিযে ব্যবসা সফল ব্যবসা মডেল, এসএমই বা ব্যবসা মডেল তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি কেউ যদি এই স্টারলিংক ব্যবহার করে তা ইন্টারনেট নিয়ে (মোবিলিটি এবং রোমিং সুবিধা ছাড়া) সেটাকে ফিড করে যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেখানেও আমরা কোন বাধা রাখিনি। অর্থাৎ বাংলাদেশের এসএমই কিংবা উদ্যোক্তা বিকাশে সব ধরনের ফ্যাসিলিটি আইন, আইনগত আইনগত ফ্যাসিলিটেশন রাখা হয়েছে। এর বাইরে আমরা সবাই প্রফেসর ডক্টর মুহম্মদ ইউনূসের ফোন লেডি কনসেপ্টে বড় হয়েছি। স্টারলিংকের মাধ্যমে আমাদের মাইক্রোক্রেডিট কিংবা ইএমআই অথবা যেকোন এমএফআই/এমআরএ পদ্ধতিতে অন্য কোম্পানিগুলো ফাইন্যান্সিয়াল অর্গানাইজেশনগুলো চাইলে ওয়াইফাই লেডি হিসেবে নতুন একটা উদ্যোক্তার ধারা সৃষ্টি করতে পারে। যদি তারা চাইলে শুধুমাত্র গ্রামীণ মহিলাদেরকে একটা বিশেষ ঋণ দিতে পারে যে ঋণের মাধ্যমে তারা স্টারলিংক নিয়ে ইন্টারনেট সেবা বিক্রয় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভবন ছাড়াও ইনফরমাল কো-ওয়েবিং বিজনেসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবেন। 

প্রশ্নঃ স্টারলিংকের মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হবে কি?
উত্তরঃ স্টারলিংকের একটি লোকাল গেটওয়ে থাকবে। এর কমার্শিয়াল টেস্ট রান ও গ্রাউন্ড টেস্ট চলমান। এসকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য স্টারলিংক কোম্পানিকে ৯০ দিনের সময় দেয়া হয়েছে, যার দশ দিন গত হয়েছে । অতিবাহিত হলেই তাদের লোকাল গেইটওয়ে বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি ডিভাইসের ক্ষেত্রে রেট, ভ্যাট, ট্যাক্স আছে তাই ডিভাইসের বিষয়ে এনওসি নিবে ।

প্রশ্নঃ চলমান চীন মার্কিন বাণিজ্য দ্বন্দ্বের মধ্যে স্টারলিংকের ব্যবহারে অনুমতি প্রদানে কোনো প্রভাব পড়বে কী ?
উত্তরঃ বাংলাদেশ যোগাযোগ প্রযুক্তির বিচারে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। বাংলাদেশে ৪/৫জি টেকনলোজিতে সর্বাধুনিক নেটওয়ার্ক ও ব্যকবোন স্থাপনে চীনা প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিটিসিএল, টেলিটক সংস্থার অধীন চীনা অর্থায়নে ও প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পনাইর ভেন্ডর হিসেবেও অনেক চীনা কোম্পানি কাজ করছেন। আমরা চাই, চীন কিংবা মার্কিন ব্যবসায়ীরা যেনো স্বাধীনভাবে এখানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে উন্মুক্তভাবে ব্যবসা করতে পারেন। চীনা কোম্পানি GW যদি আসতে চায় তারাও একই প্লেসি সুবিধা প্রাপ্ত হবে। উল্লেখ্য অন‍্যান‍্য দেশের কিছু কোম্পানি যেমন- Amazon Kuiper, Telesat, Satteloit, এবং Oneweb (UK) আগ্রহী। তারা এখানে ব‍্যবসা করলে আমরা তাদেরকেও একই রকম পলেসি সুবিধা দিতে প্রস্তুত।


প্রশ্নঃ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক এর দাম কী সহনীয়?
উত্তরঃএকটা ভবনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন অনেকগুলো অ্যাপার্টমেন্ট, কন্ডোমিনিযাম, ফ্ল্যাট থাকে। তারা বেশ কয়েকটা অ্যাপার্টমেন্ট যারা পাশাপাশি থাকে তারা মিলে পাশাপাশি চারটা বা পাঁচটা অ্যাপার্টমেন্ট বা কয়েকটা দুই একটা তলা মিলে এই সার্ভিস ব্যবহার তবে এক্ষেত্রে রেঞ্জ সর্বোচ্চ ২০মিটার করতে পারবেন। সবকিছু মিলিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য এবং কনজিউমারদের জন্য এককালীন দামটা বেশি হলেও সেটাপ কস্টটা বেশি হলেও আমার মনে হয় এটা যখন ডিস্ট্রিবিউটেড হয়ে যাবে অর্থাৎ সমবায় ভিত্তিতে হবে তখন এটার আর খুব বেশি অনুভূত হবে না।

প্রশ্নঃ রিজিওনাল প্রাইস বিবেচনায় স্টারলিংকের ব্যয় কী বাংলাদেশে বেশী?
উত্তরঃ  রিজিওনাল যে প্রাইস আমরা রিজিওনাল প্রাইস অ্যানালাইসিস করেছি সেখানে দেখেছি যে, যে রিজিওনাল প্রাইসের তুলনায় বাংলাদেশে স্টারলিংকের দাম সবচেয়ে কম। এমনকি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, থাইল্যান্ডের চেয়েও কম। সো আমরা এটা তাদেরকে রেখেছি যাতে তারা মানুষের সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। যেহেতু বিষয়টা শেয়ার্ড হবে, একক ব্যক্তি যিনি কিনবেন, যিনি ব্যয় নির্বাহ করবেন তার জন্য দাম বেশি হলেও শেয়ারিং এ কোনো সীমা না থাকায় একাধিক শেয়ারিং এ দাম কমে আসবে।

প্রশ্নঃ  সরকারি কোম্পানির স্বার্থ কিভাবে রাখা হচ্ছে?
উত্তরঃ দুই ভাবে সরকারি কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।  প্রথমত সাবমেরিন কেবল কোম্পানির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত স‍্যাটেলাইট কোম্পানির মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা ব্যবসায়ীরা (আইএসপি) মনে করছে স্টারলিংক তাদের ব্যবসার ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করবে। তারা গ্রাহক হারাবে। আপনি কি এ বিষয়ে এক মত? 
উত্তরঃ আইসিটি থেকে এক লাখ নয় হাজার এন্ড ইউজার বা প্রান্তিক গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়ার জন্য একটা প্রকল্প চলছে। এই প্রকল্প ৩৬টি আইএসপির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আমি আশা করব, আইএসপিরা এই প্রকল্পটা সঠিক সময়মতো বাস্তবায়ন করবে। দ্বিতীয়ত আমরা আইএসপিদের অনুরোধ করেছি, গত চারমাস ধরে তাদের এটা বোঝাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি যে একটা নতুন বিকল্প আসছে, বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। সুতরাং আইএসপিরা ইন্টারনেটের পরিবর্তে যে ক্যাশ বিক্রি করে, সেখান থেকে তাদের সরে আসতে হবে। গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য রিয়েল ইন্টারনেট এবং ক্যাশের মধ্যে যে আনুপাতিক হার, সেটা মেনটেইন করতে হবে। সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। তাই আমরা বলেছি, ৫ এমবিপিএস বা ১০ এমবিপিএস গতিকে তারা যেন আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট না বলে। এটা খুবই রং টার্মিনোলজি। ২০ এমবিপিএস এর নিচে কোনো গতিকে আসলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বলা যায় না। এই বার্তাগুলো আমরা তাদের একাধিকবার বিভিন্ন ফোরামে দিয়েছি। আমরা পর্যাপ্তভাবে সতর্ক করেছি। আর সর্বশেষ বলব, আইএসপিদের রক্ষার জন্য আমরা স্টারলিংকের মোবিলিটি অপশন রাখিনি। মোবিলিটি অপশন রাখলে যে কোনো ব্যক্তি গাড়ির ওপর স্টারলিংক সেটটপ বসিয়ে সেটা ব্যবহার করতে পারত। এখন তারা যদি নিজেরা সেবার মান না বাড়ায়, একশ এমবি যদি ২০০০ মানুষের কাছে বিক্রি করে, তাহলে তাদের ভুগতে হবে।