অনলাইন মাইক্রোপ্ল্যানিং সিস্টেম সম্প্রসারণের তাগিদ

টিকাদান কর্মসূচিতে বড় চ্যালেঞ্জ ‘জনবল সংকট’

টিকাদান কর্মসূচিতে বড় চ্যালেঞ্জ ‘জনবল সংকট’
৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:০৮  

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জনস্বাস্থ্যের এক বৈশ্বিক সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হলেও জনবল ঘাটতি, বাজেট বিলম্ব ও নগর এলাকায় দুর্বল বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়াও জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালানো এবং দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ; ইপিআই/এমআইএস/ডিজিএইচএস এর উচিত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে ইউনিসেফ-সহায়তাপ্রাপ্ত সব ডিজিটাল উদ্ভাবন যেমন ই-ট্র্যাকার, VaxEPI, eVLMIS এবং GIS ভিত্তিক অনলাইন মাইক্রোপ্ল্যানিং সিস্টেম সম্প্রসারণ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তাগিদ দেয়া হয়। 

প্রেস কনফারেন্সে বলা হয়, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে। তবে টিকাদান কর্মসূচিতে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দেশের টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, যার মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক, ইপিআই টেকনিশিয়ানসহ সদর দপ্তরের ৪৩ শতাংশ পদও পূরণ হয়নি। জেলা পর্যায়ে কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের পদে শূন্যতার হার ৫৩ শতাংশ।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর সহায়তায় এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের যৌথ অ্যাডভোকেসি প্রোজেক্টের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত উদ্যোগ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ (হেলথ) ডা. চন্দ্র শেখর সোলোমন।  

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, গত দুই দশকে পাঁচ কোটিরও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় ৯৪ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ৮১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত দুই দশকে ৫ কোটিরও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় ৯৪ হাজার শিশুর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে। টিকায় বিনিয়োগকৃত প্রতি ১ ডলারে ২৫.৪ ডলার রিটার্ন পাওয়া যায় — যা প্রমাণ করে টিকা স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ।

সভায় আরও জানানো হয়, টিকাদান কার্যক্রমের নির্বিঘ্ন বাস্তবায়নে সরকার ১,৪০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এরই মধ্যে ২৪ জেলায় নতুন টিকাদান কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে টিকার ঘাটতি সমস্যা সমাধান হবে।