এপ্রিল পর্যন্ত দেশের আকাশে দেখা যাবে লাইরিড উল্কাবৃষ্টি
এপ্রিল মাসের প্রথমভাগে বাংলাদেশের আকাশে একাধিক গ্রহের কুচকাওয়াজ ও পূর্ণিমার মনোরম দৃশ্য দেখা যাওয়ার পর এবার শেষার্ধে অপেক্ষা করছে নতুন চমক। ১৭ এপ্রিল, শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা মিলবে লাইরিড উল্কাবৃষ্টি এবং গ্রহদের অবস্থানগত পরিবর্তনের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষার্ধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা লাইরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতিবছর এই সময়ে পৃথিবী যখন সি/১৮৬১ জি১ থ্যাচার ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ অতিক্রম করে, তখনই এ উল্কাপাতের সৃষ্টি হয়। চলতি বছর এই উল্কাবৃষ্টি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকলেও এর শিখর সময় ধরা হচ্ছে ২২ এপ্রিল রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে, যেগুলো উজ্জ্বল আলোর রেখা রেখে দ্রুত আকাশ পাড়ি দেয় (সূত্র: স্কাইম্যাপ অনলাইন ও স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি)।
এ সময় গ্রহগুলোর অবস্থানেও লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাবে। পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ তার উজ্জ্বলতা বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে দিগন্তের নিচের দিকে নেমে যাবে। অন্যদিকে সন্ধ্যার আকাশে মঙ্গল গ্রহ তার লালচে আভা নিয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকবে। মাসের শেষ দিকে সূর্যোদয়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে পূর্ব আকাশে শনি গ্রহ বেশ উঁচুতে অবস্থান করবে, আর এর কাছাকাছি থাকবে বরফদানব নেপচুন, যদিও সেটি দেখতে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র প্রয়োজন হবে (সূত্র: স্কাইম্যাপ অনলাইন ও স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি)।
সূত্রমতে, চাঁদও এই সময়ে ক্ষীয়মাণ দশায় প্রবেশ করবে। ২১ এপ্রিলের দিকে চাঁদ যখন লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জ-এর কাছে অবস্থান করবে, তখন তার মৃদু আলো উল্কাপাত দেখায় সামান্য ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে মাসের শেষ দিকে আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জের বিন্যাসে আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাবে। দক্ষিণ আকাশে করভাস নক্ষত্রপুঞ্জ-এর চারকোনা আকৃতি সহজেই চোখে পড়বে। একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে উজ্জ্বল নীলাভ স্পাইকা জ্বলজ্বল করবে, যা কন্যা রাশির অংশ। আর উত্তর-পূর্ব আকাশে কমলা আভাযুক্ত আর্কটারাস দৃশ্যমান থাকবে, যা আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং বসন্তকালের অন্যতম নির্দেশক (সূত্র: স্কাইম্যাপ অনলাইন ও স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি)।
সব মিলিয়ে এপ্রিলের শেষভাগে বাংলাদেশের রাতের আকাশ হয়ে উঠবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক নানা ঘটনার এক অনন্য প্রদর্শনী, যা খালি চোখেই উপভোগ করা সম্ভব হবে।
ডিবিটেক/এনএ/ইকে







