৯ অ্যাপে ডিএমপির এআই পুলিশিং

৯ অ্যাপে ডিএমপির এআই পুলিশিং
৩১ মে, ২০২৬ ১৩:৪৪  

দিন বদলের সাথে সাথে অপরাধের ধরনও বদলে যাচ্ছে। প্রথাগত ছিনতাই বা চুরির চেয়ে এখন দিন দিন বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ।  ডিজিটাল ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ‘ডিপফেক’ ছবি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো ঘটনা ঘটছে।

তবে অপরাধীদের এই নতুন কৌশলকে টেক্কা দিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিজেদের যুগোপযোগী করে তুলছে। অপরাধের অন্ধকার জগৎ ভাঙতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবার ঝুঁকছে ‘এআই পুলিশিং’-এর দিকে।

সম্প্রতি পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিএমপি ৯টি নতুন ডিজিটাল অ্যাপ ও ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেমন—হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এই এআই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। উন্নত ভিডিও বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন রাস্তায় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ সংগ্রহ এবং ‘স্পট স্থিরচিত্র মামলা’ বা ই-প্রসিকিউশন পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ যেমন কমবে, তেমনি বাড়বে আইন প্রয়োগের সার্বিক দক্ষতা।

 সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্মার্ট সিসিটিভি ব্যবস্থাতেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সন্দেহজনক চলাফেরা, পরিত্যক্ত বস্তু, অস্ত্র বা যেকোনো ধরনের সহিংস আচরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এমনকি সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুলির শব্দ শুনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অপরাধের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি শুধু নগরীতেই নয়, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে সহায়তা করছে।

এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য ‘বিডি পুলিশ হেল্পলাইন’ অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা এবং জরুরি যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিকস ও জাতীয় তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষায় সিআইডির ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ (সিপিসি) এবং ‘বিডিজি ই-গভ সার্ট’-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

নতুন সাইবার আইনেও অনুমতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি, ব্ল্যাকমেইলিং বা চাঁদাবাজির অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

তবে পুলিশিং ব্যবস্থায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই জয়যাত্রার মাঝেও কিছু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এআই প্রযুক্তির গণ-নজরদারি, তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, কারিগরি পক্ষপাত এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নকে টেকসই ও জনবান্ধব করতে হলে কঠোর প্রত্যক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং নৈতিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

/ডিবিটেক/এসআইএস/ইকে/