পদ্মা ও যমুনা সেতুর ইটিসি লেন থেকে ১০ দিনে আয় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা

পদ্মা ও যমুনা সেতুর ইটিসি লেন থেকে ১০ দিনে আয় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা
১ জুন, ২০২৬ ১১:১৪  

গত ২২ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুই প্রধান চালিকাশক্তি পদ্মা ও যমুনা সেতুর ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি লেন থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ২৩ হাজার ১৫০ টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের শেষ ১০ দিনে পদ্মা সেতুতে ইটিসি লেন ব্যবহার করে ৪,২৪২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৬৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৫০ টাকা। বর্তমানে এই সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৮৭০টি।

অন্যদিকে, একই সময়ে যমুনা সেতুতে ইটিসি লেন দিয়ে ৪,৮২৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৬২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা, যেখানে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,৭৭৪টি। চালুর পর থেকে এযাবৎকাল পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোট ৩৮,৯৪০টি যানবাহন এই সুবিধা নিয়ে ৬ কোটি ৯৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৫০ টাকা এবং যমুনা সেতুতে ৪,২২,৪৭৯টি যানবাহন ইটিসি ব্যবহার করে রেকর্ড ৫৫ কোটি ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৫০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেছে।  

১ জুন, সোমবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, ইটিসি  লেনের সবচেয়ে বড় চমক হলো, টোল প্লাজায় কোনো রকম না থেমেই ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারছে, যা ঈদের মৌসুমে টোল প্লাজার চিরাচরিত দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রযুক্তিভিত্তিক এই আধুনিক টোল ব্যবস্থার কারণে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিকতর নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যানজটমুক্ত হয়েছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল, যা সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

জানাগেছে, ঈদযাত্রার এই বড় সাফল্য ও যাত্রীসাধারণের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সেতু সচিব সংশ্লিষ্ট সকল প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ চালকদের জন্য আরও বড় সুখবর হলো, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা দেশের সকল ইটিসি ব্যবস্থাকে এখন একটি একক ও সমন্বিত নেটওয়ার্কে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বিভিন্ন সড়ক, সেতু বা ফ্লাইওভারে ইটিসি চালু থাকলেও সেগুলোর হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং পেমেন্ট পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে পুরো দেশকে একটি অভিন্ন ও ব্যবহারবান্ধব ইটিসি সেবার আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেতু সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুততম সময়ে দেশের টোল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

/ডিবিটেক/ এনডি/ এমইউআইএম/