মহাবিশ্বের প্রসারণ হারের সবচেয়ে নির্ভুল পরিমাপ, গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

মহাবিশ্বের প্রসারণ হারের সবচেয়ে নির্ভুল পরিমাপ, গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৪  

মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, সেই হারের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভুল পরিমাপ প্রকাশ করেছে ৪০ বিজ্ঞানীর একটি আন্তর্জাতিক গবেষকদল। তাদের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের প্রসারণের হার প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩.৫ কিলোমিটার।

গবেষণাটিতে অনিশ্চয়তার হার ধরা হয়েছে ±০.৮১, যা এক শতাংশেরও কম। ফলে এটিকে এখন পর্যন্ত হাবল কনস্ট্যান্টের অন্যতম নির্ভুল পরিমাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই গবেষণার অন্যতম রচয়িতা ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স (কাসা)-এর কোর গ্রুপের সদস্য।

প্রায় ৪০ জন গবেষকের দলটি এইচ নট ডিস্ট্যান্স নেটওয়ার্ক কোলাবোরেশন নামে পরিচিত। তাদের গবেষণাপত্র ‘The Local Distance Network: A Community Consensus Report on the Measurement of the Hubble Constant at ~1% Precision’ প্রকাশিত হয়েছে Astronomy & Astrophysics সাময়িকীতে।

মহাবিশ্বের প্রসারণের হার বা হাবল কনস্ট্যান্ট (H₀) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মহাবিশ্বের শুরুর দিকের বিকিরণ বিশ্লেষণ এবং নিকটবর্তী ছায়াপথ পর্যবেক্ষণভিত্তিক পদ্ধতিতে পাওয়া ফলের মধ্যে অমিল থাকায় এ বিতর্ককে বিজ্ঞানীরা ‘হাবল টেনশন’ নামে অভিহিত করেন।

ড. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন পদ্ধতির পরিমাপে একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। তাই এ অমিলকে শুধু কোনো একটি পদ্ধতির ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। বরং এটি পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর কোনো অজানা বিষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

গবেষণায় পৃথক পদ্ধতিগুলোকে আলাদা করে না দেখে একটি সমন্বিত কাঠামোয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাকে গবেষকরা ‘ডিস্ট্যান্স নেটওয়ার্ক’ বলছেন। এতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির তথ্য একত্রে যাচাই করে তুলনামূলক ফলাফল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের গবেষকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নমনীয় কাঠামো তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এ গবেষণা সহায়ক হবে।

ড. খান মোহাম্মদ বিন আসাদ, সহকারী অধ্যাপক ও পরিচালক, CASA বলেন, কাসার মাধ্যমে বাংলাদেশের গবেষকদের আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। এতে তরুণদের আধুনিক গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ছে।

দেশের প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে কাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে। সম্প্রতি আইইউবির ক্যাম্পাসে একটি ছোট আকারের ট্রান্সিয়েন্ট অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক মহাকাশ গবেষণার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিবিটেক/সিসি/ইকে