বাংলাদেশের এআই দলে বিশ্বমঞ্চে লড়বেন যারা
আগামী আগস্টে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ৩য় আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াড এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শীর্ষ আসরে অংশ নিতে ১২ সদস্যের চূড়ান্ত জাতীয় দল প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। চলতি মাসের ১৩ জুন ঢাকার নির্ধারিত ভেন্যু থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে লড়বে আট সদস্যের প্রথম দলটি।
এই দলে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে প্রস্তুত হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের লাবিব শাহরিয়ার, নটর ডেম কলেজের ত্রিদিব রায় আর্য ও মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাইদুজ্জামান আরাফ, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নওফেল রহমান, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের মুর্তজা আব্দুল্লাহ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনন্য জারিফ আকন্দ এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মো. রিয়াসাত ইসলাম। অন্যদিকে আগস্টে কাজাখস্তানের মূল বিশ্বমঞ্চে সরাসরি দেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরবে চার সদস্যের মূল দল। এই আন্তর্জাতিক দলে রয়েছেন লাবিব শাহরিয়ার, মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম, সাইদুজ্জামান আরাফ এবং অনন্য জারিফ আকন্দ। বিশ্বমানের এই লড়াইয়ে তরুণদের আইসিটি ও প্রকৌশলগত দিকনির্দেশনা দিতে দলনেতা হিসেবে সাথে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন।
৩১ মে, রবিবার নতুন দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। তিন মাসব্যাপী দেশজুড়ে চলা তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মে মাসের ২০ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের কঠিন মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই তরুণ প্রযুক্তিবিদদের নির্বাচিত করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াডে দেশের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক মঞ্চ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে এই উদীয়মান তারুণ্য।
এই স্বপ্নের দল গঠনের যাত্রাটি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং। গত ২৫ মার্চ ৩য় বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা ‘এআই কুইজ’ এবং ‘এআই চ্যালেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে নিজেদের মেধার প্রমাণ দেয়। এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে অফলাইন আঞ্চলিক পর্বের পাশাপাশি খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য ছিল অনলাইন ই-অলিম্পিয়াড। এরপর ১৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বের শীর্ষ ৩০ জন দক্ষ প্রতিযোগীকে নিয়ে বসা হয় সিলেকশন ক্যাম্পে। সেখানে মেশিন লার্নিং কনটেস্ট, পাইথন নোটবুক মূল্যায়ন এবং সিলেকশন টেস্টের মতো উচ্চতর প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তিগত ধাপ পেরিয়ে তবেই মিলেছে এই চূড়ান্ত দলের টিকিট।
তরুণ প্রজন্মকে ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক স্তরে দক্ষ করে গড়ে তোলার এই মহতী উদ্যোগে এবারও ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইটি উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এবং রিভ চ্যাটের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি ব্রেইন স্টেশন ২৩, মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ আইটি ও বিটনার মতো বড় বড় দেশীয় স্টার্টআপগুলো এই আয়োজনে যুক্ত ছিল। মেধা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন বিশ্বমঞ্চ থেকে বড় সাফল্য ছিনিয়ে এনে দেশের সামগ্রিক আইসিটি ও উদ্ভাবন খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, এটাই এখন পুরো বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
/ডিবিটেক/এমএম/এমইউআইএম/



