৩ ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ সিম কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত বিটিআরসি'র

৩ ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ সিম কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত বিটিআরসি'র
৩১ মে, ২০২৬ ০৯:৩৮  

প্রবাসী, মৃত ব্যক্তি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী বা প্রবীণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে বিশেষ পদ্ধতিতে সিম কার্ড ইস্যু ও মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 

বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপজনিত নানা আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সরকারের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে  মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব বলেছে, এর ফলে সাড়ে ১৮ কোটিরও বেশি সিম সংযোগধারীর এই বিশাল বাজারে গ্রাহক হয়রানি ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

সাধারণত সিম পুনঃউত্তোলন, নতুন নিবন্ধন কিংবা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চরম বিপাকে পড়তে হতো।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশের চার মুঠোফোন অপারেটরের কাছ থেকে এমন জটিলতার মাত্র ৮৮টি বিশেষ অনুরোধ অনুমোদন করা সম্ভব হয়েছিল, যার মধ্যে সিম রিপ্লেসমেন্ট ছিল ৫১টি, নতুন সিম নিবন্ধন ৮টি এবং মালিকানা পরিবর্তন ছিল ২৯টি। এই বাস্তব সংকট ও গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিটিআরসি এখন প্রধান তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে সিম দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মূল গ্রাহক বিদেশে থাকা অবস্থায় তার বাংলাদেশি সিমটি অকেজো হয়ে পড়লে তিনি দেশে থাকা তার কোনো মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে সেটি তুলতে পারবেন। এ জন্য গ্রাহকের পাসপোর্ট ও ভিসার অনুলিপি, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং তার পক্ষে যিনি সিমটি গ্রহণ করবেন—সেই ব্যক্তির পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, প্রবীণ বা অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যাদের বায়োমেট্রিকে আঙুলের ছাপ স্পষ্ট আসে না, তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডি এবং মেডিকেল বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে সিম কার্ড তুলতে পারবেন।

এছাড়া কোনো নিবন্ধিত গ্রাহক মারা গেলে তার সিমের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য মূল গ্রাহকের এনআইডি, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশনামা ও বৈধ উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে আবেদন করা যাবে।

মোবাইল খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের ফলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং চিকিৎসাধীন নাগরিকরা যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের নাগরিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন।
/ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে/