তীব্র স্রোতে উন্মুক্ত সন্দ্বীপের সাবমেরিন ক্যাবল, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা

তীব্র স্রোতে উন্মুক্ত সন্দ্বীপের সাবমেরিন ক্যাবল, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা
১ জুন, ২০২৬ ১২:২৪  

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান দুটি সাবমেরিন ক্যাবল উপরিভাগের মাটি সরে গিয়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলের সাম্প্রতিক তীব্র স্রোত ও উপকূলীয় ভাঙনের মুখে পড়ায় ক্যাবল দুটির ওপর থাকা সুরক্ষামূলক মাটির স্তর সরে যায়। সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ঠিক দেড় কিলোমিটার দূরত্বে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে, যেখানে ভাটার সময় প্রায় ৪০ ফুট ক্যাবল স্পষ্ট দেখা যায়।

অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় চলে আসায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দ্বীপটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রায় আধা কিলোমিটার সমতল ভূমি ভাঙনের কবলে পড়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে। ২০১৭ সালে ক্যাবল স্থাপনের সময় তা অনেক গভীর দিয়ে নেওয়া হলেও এখন ভাটার সময় তারের ওপর দাঁড়িয়ে স্থানীয় ছেলেদের নাচানাচি ও টিকটক-ভিডিও করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে স্থানীয় জেলে ও রাখালদের নজরে আসে এবং গত শনিবার এক যুবকের ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় গ্রিডের এই লাইফলাইন ঝুঁকিতে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সন্দ্বীপের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরপরই তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে ক্যাবল দুটির জরুরি সুরক্ষায় মাঠে নেমেছেন। জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ইতিমধ্যে পুলিশ এবং আনসার-ভিডিপিকে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপে আলোর বিপ্লব ঘটাতে ২০১৮ সাল থেকে এই সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রথম জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এখানে স্থাপিত দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সম্মিলিত বিদ্যুৎ পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৫০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে স্থানীয় চাহিদার কারণে প্রাথমিকভাবে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই দুটি ক্যাবলের স্থায়ীত্বকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ বছর। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই ক্যাবল দুটি সাগরের তলদেশের প্রায় ১৫ ফুট গভীর মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়েছে।

/ডিবিটেক/বিটিসিও/ইকে/