জেরায় আইএসপিএবি’র তৎকালীন সভাপতি

‘জুলাই অভ্যুত্থানে সরকারের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়’

‘জুলাই অভ্যুত্থানে সরকারের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়’
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১১  

ডেটা সেন্টার পোড়ার কারণে নয়; জুলাই অভ্যুত্থানে ‘সরকারি সিদ্ধান্তেই’ দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন ইন্টারনেট সেবাদাতারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ  আসামি পক্ষের জেরায় এমনটাই জানিয়েছেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি’র তৎকালীন সভাপতি মো. ইমদাদুল হক মোল্লা। 

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে ১২ এপ্রিল দেয়া জবানবন্দিতে এমনটাই জানান ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের এই পরিচালক। তিনি যখন আদালতে তার কথা তুলে ধরছিলেন তখন পেছনেই ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী। তার উপস্থিতিতেই তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, আইটিসি ও সাবমেরিন থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ইন্টারনেট সেবা চালিয়ে যেতে পারেননি। 

ডেটা সেন্টার বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরায় ইমদাদুল হক মোল্লা বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই পলক যখন ত্রাণ ভবন পরিদর্শন করেছিলেন, তখন পোড়া দেখেছেন তিনি (ইমদাদুল)। ওভারহেড কেব্‌ল পুড়ে গিয়েছিল, তা–ও দেখেছেন তিনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সার্ভার পুড়ে গিয়েছিল, সেটিও দেখেছেন। আগুন লাগার কারণে আশেপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বিধায় এলাকাবাসী কিছু কেব্‌ল কেটে দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা হলাম শেষ স্তর। আমাদের ওপর আরও দুটি স্ত্রর যথাক্রমে IIG (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে), সাবমেরিন ক্যাবল। কোম্পানি এবং ITC (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টিরিয়াল কোম্পানি) রয়েছে।  ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগে। ওই দিন বিকেল চারটা থেকে কিছু কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ইন্টারনেট সেবা সারা দেশে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হওয়ার বিষয়ে আইআইজির (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরিট্রিয়াল কেব্‌ল) থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এরপর তারা বুঝতে পারে, সরকারের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে।  কারণ সারাদেশে আরও ১৫/১৬ টি ডাটা সেন্টার রয়েছে। 

জবানবন্দি বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘জেরায় ইন্টারনেট বন্ধের ব্যাপারে কোনও কোশ্চেন আসে নি, যা কোশ্চেন ছিলো তার আনসার শুধুই দিয়েছি, মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিলো না। কেননা, ওখানে শুধু আনসারগুলোই কোয়েশ্চেন করে। তারা মূলত ডেটা সেন্টার পোড়া নিয়ে আমার এক্সপার্ট অপিনিয়ন হিসেবে এই জবানবন্দি নিয়েছে’। 

আদালতকে তিনি জানান, তার নাম মো. ইমদাদুল হক মোল্লা। বয়স ৫৩ বৎসর। পেশায় একজন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। তিনি ‘অস্টিমেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

ইমদাদুল হক আরও বলেন, ২৩ জুলাই তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তারা ইন্টারনেট চালুর অনুরোধ জানান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী সেদিনই সেবা চালুর আশ্বাস দেন এবং ডাটা সেন্টারে আগুন লাগার কথা উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষীর দাবি, এটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল কারণ আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, কোনো ডাটা সেন্টারে নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবনের বাইরে কিছু ফাইবার অপটিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশে থাকা অন্যান্য ডাটা সেন্টার দিয়ে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখা সম্ভব ছিল।

ডিবিটেক/ডিএইচই/এমইউআইএম